ডারউইনের রোদ ঝলমলে সকালে প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনটা শুরু হয়েছিল ৫১ রানে ২ উইকেট নিয়ে ব্যাট করতে নামা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশকে দিয়ে।
প্রথম ওভারেই যেন ঝড় তোলেন তাসকিন আহমেদ আর হাসান মাহমুদ—স্যাম কনস্টাস আর ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে দুজনেই ফেরেন মাত্র এক রানের ব্যবধানে, মনে হচ্ছিল আগের দিনের মতোই দাপট দেখাবে বাংলাদেশের বোলিং। কিন্তু কার্টিস প্যাটারসন আর জশ ফিলিপ এর প্রতিরোধ দিয়ে সেই ধাক্কা সামলে ওঠে স্বাগতিকরা, আর আসল মোড় ঘোরে ষষ্ঠ উইকেটে ট্যাগ উইলি-জেক ডোরানের ১৬৭ রানের জুটিতে। উইলি খেলেন ধৈর্যশীল ১৭৭ বলে ১৩০ রানের ইনিংস, ষোলোটি চারের মার সাজিয়ে, আর ডোরান করেন ১০২ বলে ৭৬।
শেষ পর্যন্ত ৮৭.২ ওভারে ৩৫৫ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া একাদশ, বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৬৩ রানের চেয়ে ৯২ রান এগিয়ে। হাসান মাহমুদ একাই তুলে নেন চার উইকেট, তাসকিন আর মেহেদী হাসান মিরাজ প্রত্যেকে নেন দুটি করে—কেন্ট আর লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ থেকে বয়ে আনা সেই ধারই যেন আরও একবার প্রমাণ করলেন হাসান।

দিনের আলো তখনও কিছুটা বাকি, আর সেই ফাঁকেই ৯২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু বিকেলের এই সংক্ষিপ্ত সেশনেও যেন আগের ধাক্কারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল। সাদমান ইসলাম মাত্র ৬ রানে ক্যাম্প বেল থমসনের বলে ক্যাচ তুলে দেন, আর একই বোলারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মুমিনুল হকও, তিনিও ৬ রানে। দুই উইকেট হারিয়ে দিনের খেলা যখন শেষ হয়, বাংলাদেশের রান তখন মাত্র ১৯, ক্রিজে অপরাজিত তানজিদ হাসান তামিম ৭ রানে।
স্টাম্পে দাঁড়িয়ে হিসেবটা দাঁড়ায়—বাংলাদেশ পিছিয়ে ৭৩ রানে, হাতে আছে আট উইকেট। আগামীকাল প্রস্তুতি ম্যাচের শেষ দিনে নাজমুল হোসেন শান্ত আর মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের কাঁধেই এখন দায়িত্ব—ডারউইনের এই বাউন্সি, দ্রুতগতির উইকেটে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ কি পারবে লিড ছাড়িয়ে যেতে, নাকি আসল টেস্টের আগেই মিলবে আরেকটি সতর্কবার্তা?












