২০০৩ সালে যে অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ

ক্রিকেট ঐতিহাসিক গিডিয়ন হেইগের ভাষায়, সেই সময় কেয়ার্নস আর ডারউইনের সম্মিলিত জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ মাঠে হাজির হয়েছিলেন এই সিরিজ দেখতে—উত্তর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট-ইতিহাসে যা ছিল বিরল এক উপলক্ষ। অথচ মাঠের ভেতরে বাংলাদেশের জন্য সেই উপলক্ষ পরিণত হয়েছিল একরাশ তিক্ত অভিজ্ঞতায়।

ড্যানভিলের ওভালে সেদিন টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন স্টিভ ওয়াহ, আর সেই সিদ্ধান্তই যেন ভবিষ্যৎ লিখে দিয়েছিল। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ৯৭ রানে—ম্যাকগ্রা আর ব্রেট লি দুজনেই নিয়েছিলেন তিনটি করে উইকেট, বল যেন উইকেটের ঠিক ওপর দিয়ে হাওয়ায় ভেসে এসে আছড়ে পড়ছিল ব্যাটসম্যানদের প্যাডে।

জবাবে অস্ট্রেলিয়া তুলেছিল ৪০৭ রান, ৭ উইকেটে ডিক্লেয়ার করে। ম্যাচসেরা হয়েছিলেন অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ নিজেই—অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসে যেন প্রমাণ করেছিলেন, বয়স তাঁর ব্যাটে এতটুকু মরচে ধরাতে পারেনি। শেষ ইনিংসেও বাংলাদেশ পারেনি দাঁড়াতে, ১৭৮ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ১৩২ রানের বিশাল হারে শুরু হয়েছিল সফর।

সেই অস্ট্রেলিয়া দলটার দিকে তাকালে মনে হয়, ক্রিকেট ইতিহাসের এক স্বর্ণযুগ যেন একসাথে মাঠে নেমেছিল। জাস্টিন ল্যাঙ্গার আর ম্যাথু হেইডেনের ওপেনিং জুটি, তিনে রিকি পন্টিং, চারে ড্যারেন লেহম্যান, পাঁচে অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ, ছয়ে মার্টিন লাভ, সাতে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট—আর বোলিংয়ে গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি, জেসন গিলেস্পি আর স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের মতো অস্ত্র।

কেয়ার্নসের দ্বিতীয় টেস্টে যেন আরও নির্মম হয়ে উঠেছিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৯৫ রান তুলেও শেষরক্ষা হয়নি, কারণ জবাবে অস্ট্রেলিয়া নেমেছিল রেকর্ড গড়ার নেশায়। ড্যারেন লেহম্যান খেলেছিলেন ২০৭ বলে ১৭৭ রানের ইনিংস—তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর, যা তিনি গড়েছিলেন ঠিক এই বাংলাদেশের বিপক্ষেই। স্টিভ ওয়াহ আবারও অপরাজিত ১৫৬ রানে, মার্টিন লাভ অপরাজিত ১০০ রানে—দুজনে মিলে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গিয়েছিলেন ৫৫৬/৪ ডিক্লেয়ারে।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসেও ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায়, হার আসে ইনিংস ও ৯৮ রানের ব্যবধানে। পুরো সিরিজে স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল একাই নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট, হয়েছিলেন সিরিজসেরা—তাঁর গুগলি আর টার্নে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা রীতিমতো দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন। আর দুই ইনিংস মিলিয়ে ২৮৭ রান তুলে সিরিজের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন লেহম্যান নিজেই।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ গিডিয়ন হেইগের ভাষায়, সেই সময় কেয়ার্নস আর ডারউইনের সম্মিলিত জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ মাঠে হাজির হয়েছিলেন এই সিরিজ দেখতে—উত্তর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট-ইতিহাসে যা ছিল বিরল এক উপলক্ষ। অথচ মাঠের ভেতরে বাংলাদেশের জন্য সেই উপলক্ষ পরিণত হয়েছিল একরাশ তিক্ত অভিজ্ঞতায়।

ঠিক ২৩ বছর পর সেই একই মাটিতে আবার পা রেখেছে বাংলাদেশ, আর এবার অস্ট্রেলিয়া বিষয়টি একেবারেই হালকাভাবে নেয়নি। প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে ঘোষিত দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে গ্রীষ্মে মাত্র তিনটি টেস্ট একসঙ্গে খেলতে পারা জশ হ্যাজেলউড  আর নাথান লায়নকে, সঙ্গে আছেন কামিন্স নিজেও। স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, মার্নাস লাবুশান, ট্র্যাভিস হেডের মতো নাম তো আছেই, সঙ্গে ক্যামেরুন গ্রিন, স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স কেয়ারি, জশ ইংলিস আর বো ওয়েবস্টারের মতো গভীরতাও। এক বছর পর প্রথমবার পূর্ণশক্তির স্কোয়াড মাঠে নামাতে চলেছে অস্ট্রেলিয়া—আর সেটা বাংলাদেশের বিপক্ষেই। বার্তাটা স্পষ্ট প্রতিপক্ষ যত ছোটই মনে হোক, সেরাদের ছাড়া নামতে রাজি নয় তারা।

ডারউইনের সেই  স্টেডিয়ামেই শুরু হচ্ছে প্রথম টেস্ট, বাংলাদেশ দল ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে অস্ট্রেলিয়ায়। প্রশ্ন একটাই—২৩ বছর আগের সেই দুঃস্বপ্নের স্বাদ আবারও কি ফিরিয়ে দেবে এই পূর্ণশক্তির অস্ট্রেলিয়া, নাকি এবার নতুন কোনো ইতিহাস লেখা হবে?

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link