তিন অঙ্কের ঘরে পা রাখা যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল মার্নাস লাবুশানের কাছে। ২০২৩ সালের অ্যাশেজে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ১১১ রানের ইনিংসের পর বাইশটি টেস্ট পেরিয়ে গেছে, অথচ সেঞ্চুরির স্বাদ আর পাননি অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটার। মাঝে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চে নব্বইয়ের ঘরে থমকে গিয়ে আক্ষেপ বেড়েছিল আরও। রানের এই খরা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে এক বছর আগে দল থেকেই বাদ পড়তে হয়েছিল তাকে।
তবে বিপর্যয়ের ভেতর থেকেই যেন আশার আলো খুঁজে পেয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার। নিজের অফ ফর্ম নিয়ে লাবুশান বলেছেন, ‘চার-পাঁচ বছর ধরে টেকনিক্যাল সমস্যাগুলো বাড়তেই থাকে। আর আমি সব সময় স্বল্পমেয়াদি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছি। নিজের সেরা ছন্দে ফেরার জন্য ঠিক কী প্রয়োজন, বিরতিতে সেটি বোঝার সুযোগ পেয়েছি। এতে প্রস্তুতিও খুব ভালো হয়েছে। আশা করি এই পরিশ্রমের পর ইতিবাচক ফল দেখতে পাব।’
সাত-আট বছরের ক্যারিয়ারে টানা সফর আর ম্যাচের চাপে নিজেকে শুধরে নেওয়ার ফুরসতই মেলেনি কখনো। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত সাত-আট বছর ধরে বিরতিহীনভাবে একের পর এক সফর ও ম্যাচের মধ্যে থাকায়, এবারই আমি সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পেলাম। এর আগেও অনেকবার এসব ছোটখাটো বিষয়গুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আন্তর্জাতিক সূচির ব্যস্ততায় পরিবর্তনগুলো পুরোপুরি রপ্ত করার মতো পর্যাপ্ত সময় কখনোই পেতাম না।’

আট সপ্তাহের সেই বিরতিতে মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গত আট সপ্তাহ নিজের মৌলিক বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিয়েছি এবং উন্নতির জন্য কাজ করেছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাধারণ বিষয়গুলো চর্চা করেছি। নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন ও সার্বিক টেকনিক নিয়েও কাজ হয়েছে। এমন কিছু আমার খুব দরকার ছিল।’
নিজের ব্যর্থতার পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে লাবুশান খুঁজে পেয়েছেন এক গোপন শত্রুকে—লোভ। তিনি বলেন, ‘যখন আপনি পরপর কয়েকটা ইনিংসে ব্যর্থ হবেন, তখন ভেতরের লোভটা বেড়ে যায়। জোর করে রান খোঁজার চেষ্টা শুরু হয়, আর খেলাটাকে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে আসতে দেওয়া হয় না। তাই আমার জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—রানের মোহ থেকে বেরিয়ে আসা। আমরা সবাই রান চাই, কিন্তু আসল ভিত্তি তো সেই সঠিক প্রক্রিয়াটা আমি এখন সেটাই আঁকড়ে ধরতে চাই।’
গত ১৪ জুন বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই সবশেষ মাঠে দেখা গিয়েছিল তাকে। এবার ডারউইন ও ম্যাকাইয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়েই আসল পরীক্ষায় নামছেন লাবুশান। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করার সম্ভাবনাই বেশি তার। দীর্ঘ বিরতির শেখা পাঠ কি অবশেষে ভাঙতে পারবে সেই দুই বছরের সেঞ্চুরি-খরা?












