অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে ধৈর্য দরকার। নতুন বলের ঝড় সামলাতে হবে, আবার ম্যাচ যত গড়াবে ততই মোকাবিলা করতে হবে স্পিনের ফাঁদ। আর এই দুই পরীক্ষার মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কারা দায়িত্ব নেবে?
বাস্তবতা হলো, এই সিরিজে বাংলাদেশের ভাগ্য শুধু ওপেনারদের ব্যাটে লেখা হবে না। বরং ইনিংসকে টেনে নেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে মিডল অর্ডার ও লোয়ার মিডল অর্ডারকে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টপ অর্ডার সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য। তাই তো ভালো শুরু না পেলেও ম্যাচে ফেরার সুযোগ থাকবে, যদি মাঝের সারি দায়িত্ব নিতে পারে।
এই কারণেই লিটন কুমার দাস এই সিরিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে শুধু ডিফেন্স জানলেই হবে না, কখন আক্রমণ করতে হবে সেটাও জানতে হবে। লিটনের সেই সামর্থ্য আছে। তিনি যদি এক প্রান্ত ধরে রাখতে পারেন, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের পরিকল্পনাও বদলাতে বাধ্য হবে। বিশেষ করে নাথান লায়নের বিপক্ষে তাঁর ফুটওয়ার্ক এবং স্পিন খেলার দক্ষতা হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

একইভাবে মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বও অন্য সবার চেয়ে বেশি। প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করে তিনি দেখিয়েছেন, এই উইকেটে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করা সম্ভব। সাত কিংবা আট নম্বরে নেমেও যদি তিনি ৭০-৮০ রান যোগ করতে পারেন, তাহলে সেটিই ম্যাচের সবচেয়ে মূল্যবান ইনিংস হয়ে উঠতে পারে। কেননা লোয়ার অর্ডারের অতিরিক্ত রানই অনেক সময় ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।
মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞতাও এখানে বড় সম্পদ। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তিনি জানেন, প্রতিটি বল খেলার গুরুত্ব কতটা। তাঁর কাছ থেকে দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে ইনিংস গড়ে দেওয়ার প্রত্যাশা থাকবেই।
অস্ট্রেলিয়ার পেস যতটা ভয়ঙ্কর, স্পিনও তেমন হয়ে উঠতে পারে মরণফাঁদ। এই জায়গায় বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের দায়িত্ব একটু বেশিই। ব্যাটারদের ধৈর্য, টেকনিক এবং দায়িত্ববোধই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

Share via:










