ডেভ হোয়াটমোর বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থানের অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানদের দাপিয়ে বেড়ানোর কারিগর যে তিনিই। বাংলাদেশ ক্রিকেট মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল তাঁর অধীনেই। এবার সেই ডেভ হোয়াটমোর আরও একবার বাংলাদেশে এসেছেন, তবে এই বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে তাঁকে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের জায়গা খুঁজে বেড়াচ্ছিল, ঠিক সেই সময় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ডেভ হোয়াটমোর। তাঁর অধীনেই বাংলাদেশ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখে। তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তোলা, দলের মানসিকতা বদলে দেওয়া এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাহস জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও স্বীকার করেন ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট সবাই। সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুও হয়েছিল হোয়াটমোরের অধীনেই। প্রথম বিশ্বকাপেও খেলেছিলেন তাঁর কোচিংয়েই, আর তখনই বিশ্ব ক্রিকেট বুঝতে শুরু করেছিল—বাংলাদেশ পেয়েছে অসাধারণ এক অলরাউন্ডার।
২০১১ সালে আইপিএলে প্রথমবার খেলার সুযোগ পান সাকিব আল হাসান। নিলামে তাঁকে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। পরে একাধিকবার সাকিব নিজেই বলেছেন, কেকেআরে সুযোগ পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ডেভ হোয়াটমোরের। কারণ, হোয়াটমোর খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন সাকিবের প্রতিভা, জানতেন বড় মঞ্চে তিনি কী করতে পারেন। সেই আস্থার প্রতিফলনই দেখা গিয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে।
তবে বাংলাদেশের সঙ্গে হোয়াটমোরের সম্পর্ক শুধু সুখস্মৃতির নয়। আইপিএলের সেই মৌসুমের পর পাকিস্তান জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর ২০১২ সালের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের মাটিতেই পাকিস্তানকে শিরোপা জেতান। ফাইনালে মাত্র দুই রানে হেরে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়। যে কোচ একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার পথ দেখিয়েছিলেন, সেই কোচের কৌশলেই সেদিন বাংলাদেশকে কাঁদতে হয়েছিল। ক্রিকেটের নির্মম বাস্তবতার অন্যতম প্রতীক হয়ে আছে সেই ম্যাচ।
এরপরও থেমে থাকেননি হোয়াটমোর। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দিয়েছেন নিজের কোচিং-অভিজ্ঞতা। শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ হিসেবে তাঁর নাম ক্রিকেট ইতিহাসে অমর। পরে পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে, নেপাল, সিঙ্গাপুর, কেরালাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও ঘরোয়া দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করাই যেন তাঁর স্বভাব।
এবার তিনি আবারও এসেছেন, তবে ভিন্ন পরিচয়ে। মালয়েশিয়া জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। মালয়েশিয়া দল খেলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফরম্যান্স ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে।

ক্রিকেট বিশ্বে এমন বহুমাত্রিক যাত্রা খুব কম কোচেরই আছে। তাই ডেভ হোয়াটমোরকে শুধু একজন সফল কোচ বললে হয়তো তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না। তিনি যেন ক্রিকেটের এক ভ্রাম্যমাণ স্থপতি, যেখানে যান, সেখানেই রেখে যান নিজের ছাপ।










