অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের ভাবনাজুড়ে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক কিংবা জশ হ্যাজেলউড। নতুন বল হাতে এই তিন পেসারের ভয়ংকর রূপ নিয়েই বোধহয় সবচেয়ে বেশি পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। কিন্তু ডারউইনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন যেন অন্য এক সতর্কবার্তা দিয়ে গেল বাংলাদেশকে। সেই বার্তা এসেছে অফস্পিনার কোরি রকিচ্চলির হাত ধরে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনেই ছয় উইকেট শিকার করেছেন এই অফস্পিনার। গত পাঁচ মৌসুম মিলিয়ে শেফিল্ড শিল্ডে রকিচ্চলি সবচেয়ে সফল স্পিনার। শুধু স্পিনারই নন, এই সময়ে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলারও।
ছয় ফুট তিন ইঞ্চি উচ্চতার এই অফস্পিনার শুধু টার্ন নয়, বাড়তি বাউন্সও আদায় করতে পারেন। উঁচু রিলিজ পয়েন্ট থেকে বল ছাড়ার কারণে ব্যাটারদের জন্য তাঁর ফ্লাইট বিচার করাও কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশকে ওটাই ভুগিয়েছে।

আর এখানেই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা লুকিয়ে আছে। কারণ প্রস্তুতি ম্যাচে রকিচ্চলি যদি এমন প্রভাব ফেলতে পারেন, তাহলে মূল টেস্টে নাথান লায়ন কী করতে পারেন, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। লায়নের উচ্চতা রকিচ্চলির চেয়ে চার ইঞ্চি কম হলেও বাউন্স আদায় করার দক্ষতা, লাইন-লেংথ, ধৈর্য আর অভিজ্ঞতায় তিনি এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা অফস্পিনার।
বাংলাদেশের ব্যাটাররা হয়তো স্টার্কের ইনসুইং, কামিন্সের নিখুঁত লেংথ কিংবা হ্যাজেলউডের ধারাবাহিকতা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করবেন। কিন্তু সেই প্রস্তুতির মাঝেই যদি লায়ন এসে ম্যাচের গতি বদলে দেন, তাহলে সেটি হবে ঠিক পরীক্ষার সিলেবাসের বাইরের প্রশ্নের মতো। যার উত্তর প্রস্তুত না থাকলে পুরো পরীক্ষাই কঠিন হয়ে যেতে পারে।
রকিচ্চলির ছয় উইকেট তাই বড় কিছুর আভাস দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য স্বস্তির সংবাদ, কারণ লায়নের পরও তাঁদের হাতে তৈরি হচ্ছে আরেক মানসম্মত অফস্পিনার। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের জন্যও স্পষ্ট সতর্কবার্তা, ডারউইনে পেসের পাশাপাশি স্পিন হতে যাচ্ছে সমান বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নপত্র হয়তো হাতে তুলে দেবেন নাথান লায়নই।

Share via:










