জাপানের সঙ্গে ভারত জিতেছে মাত্র ২ রানে, তবে জয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় থাকল জাপানের লড়াই। ক্রিকেটের কোনো বড় দলের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই চোখে চোখ রেখে কথা বলল অ্যাসোসিয়েট সদস্য দেশটি, শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ে গেল অনিশ্চয়তায়।
ভারত-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সুজুকি কাপের এই ম্যাচে সানো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বৃষ্টি বিঘ্নিত ৫ ওভারের লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাট করতে নামে ভারত।
ওপেনিংয়ে অভিষেক শর্মা আর সাঞ্জু স্যামসনকে দেখে যে কেউ ধরে নেবে ৫০-৮০ রান উঠবে, কিন্তু শুরুতেই স্পিনের জাদু দেখান জাপানের চার্লি হারা-হিনজে, প্রথম ওভারেই তুলে নেন অভিষেকের উইকেট। এরপর প্রায় প্রতি ওভারেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। ভারতীয় ব্যাটাররা খেলে যান অনেকটা প্রীতি ম্যাচের মেজাজে, জাপানের বিপক্ষে প্রথম দেখা বলেই হয়তো বিনোদনের ছাপ ছিল তাদের ব্যাটিংয়ে। শ্রেয়াস আইয়ার ১২ বলে ১৬ রান করে সর্বোচ্চ স্কোরার হলেও শেষ ওভারে তিনিও ফেরেন। ৪ উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩২ রান।

জাপানের বোলার আর ফিল্ডাররা যথেষ্ট ভালো খেলেছে, এটা বলতেই হবে। দুর্দান্ত বোলিংয়ে টার্ন আদায় করে ভারতের ব্যাটারদের উইকেট তুলে নেওয়ার দৃশ্য ক্রিকেট বোদ্ধাদের জন্য ছিল আলাদা উত্তেজনার। ৩৩ রানের লক্ষ্যে নেমে জাপানও প্রথম ওভারেই রান আউটে হারায় লাকলান ইয়ামামোতো-লেককে। এরপর ইব্রাহিম তাকাহাশি ও কেনডেল কাদোয়াকি-ফ্লেমিং আউট হলেও লড়াই ছাড়েনি জাপান, নিজেদের সামর্থ্য দিয়েই চেষ্টা চালিয়ে যায় তারা। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৮ রান, অক্ষর প্যাটেলের বলে তা আর হয়ে ওঠেনি। যদিও একটা ওয়াইড কল করে আম্পায়ারের ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জাপানের আফসোস হতেই পারে সেই ওয়াইড হলে হয়ত ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারতো। ৩ উইকেট হারিয়ে ৩০ রানেই থেমে যায় জাপানের ইনিংস।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ৪১ নম্বরে থাকা জাপান এই প্রথম কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে খেলল। জাপানে এখন ১৬টি ক্রিকেট মাঠ আছে, তার মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের কেবল দুইটি তাঁর মধ্যে একটি এই সানো গ্রাউন্ড। এমন সীমিত অবকাঠামো নিয়েও ভারতের মতো দলের বিপক্ষে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করার সামর্থ্য দেখাল জাপান, যা দেশটির ক্রিকেটের সিরিয়াসনেসের একটা প্রমাণ।

Share via:











