১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারাল ভারত নারী দল। স্মৃতি মান্ধানা-রিচা ঘোষদের ব্যাটিং ঝড়, শেফালি ভার্মার অলরাউন্ড নৈপুণ্য, সব বিভাগেই ভারতের আধিপত্য। তাতেই এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয়বারের মতো স্বর্ণ জিতল হারমানপ্রীত কৌরের দল। সেমিফাইনালের দাপট দেখিয়ে, ফাইনালে এসে অসহায় আত্মসমর্পণ করল শ্রীলঙ্কা।
এশিয়ান গেমসের ফাইনাল। স্বর্ণপদক ধরে রাখার মিশন। আগে ব্যাট করতে নামা ভারতের সামনে তাই লঙ্কানদের বড় লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। এই গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিলেন দুই ওপেনার। শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হলেন স্মৃতি মান্ধানা এবং শেফালি ভার্মা। দুজনে যেন এক প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, কে কত রান করতে পারেন, কতটা আগ্রাসী ব্যাটিং করতে পারেন।
ওপেনিং জুটি থেকেই ভারত পায় ৯৯ রান। ৪৮ রানে শেফালি ফিরলেও স্মৃতির ব্যাট থেকে আসে ৭৯। ২০০ পার হওয়া তখন সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। তবে হারমানপ্রীত কৌরের ধীরগতির ইনিংস কিছুটা লাগাম টেনে ধরে। শেষ ম্যাচে ১৭৭ রান চেজ করে জিতেছে শ্রীলঙ্কা। তাই তো বেশ দুশ্চিন্তা খেলা করতে থাকে।

এরপরই দৃশ্যপটে হাজির হন রিচা ঘোষ। একের পর এক বলকে সীমানা ছাড়া করে ভারতের সব শঙ্কা উড়িয়ে দেন। রিচার ২২ বলে ৪৯ রানের তাণ্ডবে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১৬।
এই রান তাড়া করে জিততে হলে অসম্ভবকে জয় করতে হতো। ফাইনালের ম্যাচের চাপের ওপর আবার রানের পাহাড়, সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কা ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় প্রথম ইনিংসেই। তবুও চামারি আতাপাত্তুর দিকে তাকিয়ে ছিল লঙ্কানরা। সেমিফাইনাল জয়ে অগ্রণী ভূমিকা ছিল তাঁর। ফাইনালেও প্রত্যাশা চামারিকে ঘিরেই।
শুরুটা ভালোও করেছিলেন। তবে সঙ্গিহীন এক লড়াই চালাতে হয় তাঁকে। ৩০ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। আতাপাত্তুও চাপের ভার নিতে না পেরে সরে যান ২৯ রান করে। বাকিটা সময় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং অর্ডার। গুটিয়ে যায় মাত্র ৬৯ রানে। বল হাতে তিন উইকেট শিকার করেন দীপ্তি শর্মা।

সেই সঙ্গে ভারত ম্যাচ জিতে নেয় ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে। অনেকটা একপেশে লড়াই দেখা যায় ফাইনালের মঞ্চে। আরও একবার এশিয়ান গেমসের স্বর্ণ যায় ভারতের হাতে।










