প্রত্যাবর্তনের লড়াইয়ে শামীম পাটোয়ারী!

জাতীয় দলের রাডারে ফিরতে শামীমের লড়াকু মানসিকতাই এখন প্রধান শক্তি। ২২ গজের প্রতিকূলতা কাটিয়ে শামীম কি পারবেন আবার লাল-সবুজের ড্রেসিংরুমে নিজের জায়গা পোক্ত করতে? নাকি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে তাঁর অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হবে আরও?

শামীম পাটোয়ারী। ঝড়ো ব্যাটিং আর দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের অমোঘ প্রতিভা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয়েছিল তাঁর। কিন্তু ধারাবাহিক ফর্মহীনতা জাতীয় দলের মূল একাদশ থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে এই হার্ড হিটারকে।

তবে, দমে যাওয়ার পাত্র নন শামীম! কখনো বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলে ব্যাট হাতে নিজের মেধার স্বাক্ষর দিয়েছেন তিনি। আবার কখনো বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে আলোর ঝলক দেখিয়ে প্রত্যাবর্তনের লড়াইয়ে চালিয়ে গেছেন সন্তর্পণে।

২০২১ থেকে ২০২৪ সালের ভেতর জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মধ্যেই ছিলেন ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই ক্রিকেটার। বারবার তাঁর ব্যাটিং পজিশন বদলে বহু পরীক্ষাও নিয়েছে বিসিবির সিলেকশন প্যানেল।

কখনো তিনি আটে খেলে প্রয়োজনীয় রান এনে দিয়েছেন দলকে। আবার কখনো চারে নেমে মিডল অর্ডারকে রান সংগ্রহে সহায়তা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেভাবে উইকেটে থিতু হয়ে বড় কোনো ইনিংস খেলার সুযোগ তিনি পাননি। বারবার ভিন্ন পজিশনে ব্যাট করতে নামার কারণেই নিজের সেরাটা দেওয়া সম্ভব হয়নি শামীমের।

বিবিধ পজিশনে খেলার এই গোলকধাঁধার মাঝেও নিজের জাত চেনাতে চেষ্টা করেছেন ২০০০ সালে চাঁদপুরে জন্মানো এই ব্যাটার। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২১০-এর ওপরে! বিশেষ করে ডেথ ওভারগুলোতে তাঁর ঝড়ো ইনিংস খেলার প্রবণতা দারুণভাবে দর্শকদের নজর কেড়েছে। কিন্তু চরম ধারাবাহিকতাহীনতার মাশুল তাঁকে দিতে হয়েছে বারবার দল থেকে বাদ পড়ে।

তবু, সবকিছু ছাপিয়ে ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনে ফিরতে ঘাম ঝরাচ্ছেন শামীম। নিজের ব্যাটিং টেকনিক শানিত করার পাশাপাশি, ফিটনেসেও বাড়তি ধার আনার চেষ্টা করছেন। হাই পারফরম্যান্স দল, এ দল ও ঘরোয়া ক্রিকেটেও রানের দেখা পাচ্ছেন এই ব্যাটার।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দ্যুতি ছড়িয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টটিতে ছয় ইনিংসে গড়ে ১০১.৭৫ স্ট্রাইক রেটে ১০৭ রান করেছেন শামীম, হাঁকিয়েছেন একটি হাফ সেঞ্চুরিও।

জাতীয় দলের রাডারে ফিরতে শামীমের এই লড়াকু মানসিকতাই এখন প্রধান শক্তি। ২২ গজের প্রতিকূলতা কাটিয়ে শামীম কি পারবেন আবার লাল-সবুজের ড্রেসিংরুমে নিজের জায়গা পোক্ত করতে? নাকি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে তাঁর অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হবে আরও? সময়ই দেবে জবাব!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link