বাংলাদেশ নারী দল এশিয়ান গেমস থেকে ফিরলো চতুর্থ হয়ে, খেলা হয়েছে মাত্র দুটি ম্যাচ, হেরেছে দুটিতেই। পুরো আসরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সটাই ছিল অনেকটা জোর করে টিকে থাকার মতো। কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের বিপক্ষে ম্যাচ মাঠেই গড়ায়নি, বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া সেই ম্যাচে র্যাংকিংয়ের সুবাদে সরাসরি সেমিফাইনালে চলে যায় বাংলাদেশ। প্রশ্ন উঠতেই পারে, সেই সেমিফাইনালে খেলার মতো ফর্মে আসলেই কি ছিল দলটা?
সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছে বিশাল ব্যবধানে, ১১৪ রানে। ভারত তোলে ১৯৫ রান, জবাবে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ৮১ রানে। এই হারটা নতুন কোনো গল্প বলছে না, এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, সেখানেও ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ, ব্যবধান ছিল ৪০ রান। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানও বলছে একই কথা, এখন পর্যন্ত ২৬ ম্যাচে কেবল ৩ বার জয় এসেছে ভারতের বিপক্ষে।
বড় মঞ্চে বাংলাদেশের ভেঙে পড়ার গল্পটা কেবল ভারতের বিপক্ষেই না। গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল, তবে সেবার ভিন্নভাবে। জেতার মতো অবস্থানে থেকেও শেষ ওভারে ৬ বলে চার উইকেট হারিয়ে ৭ রানে হেরে বসে বাংলাদেশ। জ্যোতি সেদিন ৭৭ আর শারমিন আক্তার ৬৪ রানের ইনিংস খেলেও ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি, শেষ মুহূর্তের চাপটা সামলানোর সাহস দেখাতে পারেননি কেউই। বড় দলের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও এভাবে খেই হারিয়ে ফেলার প্রবণতা বাংলাদেশের পুরোনো রোগ, ম্যাচ প্রায় জিতিয়ে এনেও শেষ মুহূর্তে সাহস করে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাটা তৈরি হয়নি এখনো।

এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল হারের পরই অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি জানিয়ে দেন এশিয়ান গেমসের পরই তিনি টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন, তবে ব্যাট হাতে খেলা চালিয়ে যাবেন এবং ওয়ানডে অধিনায়কত্বেও থাকবেন। নিজের কথায় জানিয়েছেন, ব্যাটার হিসেবে দলকে আরো বেশি কিছু দেওয়ার তাগিদ থেকেই এই সিদ্ধান্ত।
জ্যোতিকে নিয়ে সমালোচনার জায়গাটা অবশ্য বহু পুরোনো। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাট হাতে বড় রান পাচ্ছেন না তিনি, বড় মঞ্চে দলকে জেতানোর মতো ইনিংস আসছে না। ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর শারমিন আক্তারের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন, কিন্তু ৩০ বলে করেন মাত্র ২৫ রান। যখন হাত খুলে খেলে রানের গতি বাড়ানোর দরকার ছিল, ঠিক তখনই আউট হয়ে ফেরেন তিনি।
এই সমস্যায় বাংলাদেশ নারী দল ভুগছে অনেক দিন ধরেই। একই উপমহাদেশের শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু কিংবা ভারতের শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মান্ধানা, দীপ্তি শর্মাদের মতো কেউ একজন ম্যাচের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। বাংলাদেশের সেই একজন নেই, যিনি ম্যাচের টেম্পো বুঝে দায়িত্ব নিয়ে খেলবেন, বড় দলের বিপক্ষে নেমেই যিনি নিজেকে সেভাবে বিশ্বাস করাতে পারবেন। লক্ষ্য ছোট হোক বা বড়, ফলাফলটা প্রায় সবসময় একই রকম।

টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব বদলে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু দলের আসল সমস্যাটা অধিনায়কের চেয়ারে নয়, বড় দলের বিপক্ষে নেমে লড়াই করার মানসিকতায়। বড় মঞ্চে বারবার একইভাবে ভেঙে পড়ার এই ধারাবাহিকতা আর কতদিন চলবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।











