সাকিবের তিন ওভারের জাদু!

বল ডেলিভারির ঠিক আগে সাকিব আল হাসানকে থামিয়ে দিলেন ব্যাটার। তবে সাকিব বেশ শান্ত হয়েই ফিরে এলেন বোলিং প্রান্তে। এর ঠিক পরের বলেই সেই ব্যাটারকে তুলে নিলেন। সাকিব তো এমনই, ভেতরের বিরক্তিটাকেও ম্যাজিকে রূপান্তরিত করেন।

বল ডেলিভারির ঠিক আগে সাকিব আল হাসানকে থামিয়ে দিলেন ব্যাটার। তবে সাকিব বেশ শান্ত হয়েই ফিরে এলেন বোলিং প্রান্তে। এর ঠিক পরের বলেই সেই ব্যাটারকে তুলে নিলেন। সাকিব তো এমনই, ভেতরের বিরক্তিটাকেও ম্যাজিকে রূপান্তরিত করেন। আটলান্টা ফায়ারের জার্সি গায়ে তিন ওভারে দুই মেডেনসহ তিন উইকেট নিয়ে সাকিব বোঝালেন, বয়স বাড়লেও ক্রিকেট মাঠে তিনি অনন্য।

আগে ব্যাট করতে নামা সাকিবের দল ১৫৪ রান তোলে। সেখানেও অবদান ছিল এই অলরাউন্ডারের। দুই চারের সাহায্যে করেছেন ১৮ রান। তবে আসল খেলাটা তো বল হাতে দেখান তিনি। লডারডেলের ব্যাটিং লাইনআপ যখন ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছিল, তখন তাদের সামনে যে ঝড় অপেক্ষা করছিল, সেটার নাম সাকিব আল হাসান।

চতুর্থ ওভারে বল হাতে নিলেন। প্রথম ওভারেই প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে দিলেন, ব্যাটারদের জন্য বিপদ আসন্ন। একটিও রান দিলেন না। মেডেন ওভারের সঙ্গে তুলে নিলেন একটি উইকেট।

ষষ্ঠ ওভারে আবারও ফিরে এলেন তিনি। টি-টোয়েন্টির ক্রিকেটে যেখানে একটি ওভারেই ম্যাচের গতি পাল্টে যেতে পারে, সেখানে সাকিব যেন উল্টো সময়কেই আটকে দিলেন। মাত্র ৪ রান খরচ করে তুলে নিলেন আরও একটি উইকেট।

এরপর অপেক্ষা। তৃতীয় স্পেলে আবার যখন বল হাতে নিলেন ১৩তম ওভারে, তখনও একই গল্প। ব্যাটারদের ওপর সেই পুরোনো সাকিবীয় নিয়ন্ত্রণ। ওভারটা শেষ করলেন আবারও মেডেন দিয়ে। আর সেই ওভারেই কুশারেকে বোল্ড করে পূর্ণ করলেন নিজের তিন উইকেট। সব মিলিয়ে তিন ওভারে দুই মেডেনসহ তুলে নেন তিন উইকেট। করেছেন ১৫টি ডট বল।

সাকিব হয়তো সময়ের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছেন। ক্যারিয়ারের কত গল্পই না জমা হয়েছে তাঁর ঝুলিতে। অন্তিম লগ্নে দাঁড়িয়ে আছে বয়স। তবু সুযোগ পেলেই বাইশ গজে ফিরে এসে তিনি যেন একই কথাটাই বলেন, গল্পটা এখনও শেষ হয়নি।

 

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link