ফুটবলে এখন পর্যন্ত ২২টি বিশ্বকাপ আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু একটা প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে কে সেরা? পেলে, ম্যারাডোনা নাকি মেসি বা রোনালদো? প্রায় এক শতাব্দীতে বিশ্বকাপ মাতানো হাজারো খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে সেরা ১০ ফুটবলারকে বেছে নেওয়া কঠিন বৈ কি।
তবু একবার চেষ্টা করে দেখা যেতেই পারে!
- জিওফ হার্স্ট (ইংল্যান্ড)
শুরুতেই ১৯৬৬ সালের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের কথা না বললেই, নয়।
তারকা স্ট্রাইকার জিমি গ্রিভসের চোটের কারণে দলে সুযোগ পেয়ে থ্রি লায়ন্স কোচ স্যার অ্যালফ র্যামসের আস্থা অর্জন করেন তিনি। এরপরই গড়ে ফেলেন অমর নজির। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অনবদ্য এক হ্যাটট্রিক করে ইংলিশদের ইতিহাসের একমাত্র শিরোপা জেতান এই ফুটবলার।

- কাফু (ব্রাজিল)
ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে কাফু টানা তিন বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার অনন্য কীর্তি গড়েন।
সাও পাওলোর ফাবেলা থেকে উঠে আসা এই ফুলব্যাক ১৯৯৪ সালে ইতালিকে হারিয়ে শিরোপা জয়ে অবদান রাখেন ব্রাজিলের। ১৯৯৮-এ ফ্রান্সকে রুখতে না পারলেও ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে আবারও ব্রাজিলের রক্ষণে ইন্টারসেপশান আর ক্লিয়ারেন্সের আলো ছড়িয়ে বিশ্বজয়ের আনন্দে ভাসেন!

- পাওলো রসি (ইতালি)
আটে আছেন ইতালির পাওলো রসি। ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির জেরে দুই বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ফিরে ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে গোল্ডেন বুট জিতে নেন ইতালির পাওলো রসি। ১৯৭৮ বিশ্বকাপেও ইতালির হয়ে মাঠে নেমেছিলেন এই বিশ্বজয়ী স্ট্রাইকার।

- জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স)
ফ্রান্সের মার্সেইয়ের সোনার ছেলে জিনেদিন জিদান। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তাঁর নান্দনিক ফুটবলে ক্রীড়ামোদীরা বিমোহিত হয়েছিলেন দারুণভাবে।
ফাইনালে তাঁর জোড়া হেডে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতে নেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে পরাস্ত করে। তবে তাঁর নামের সাথে ২০০৬ বিশ্বকাপে ইতালির বিপক্ষে সেই লাল কার্ডের বিতর্কিত ঘটনাটাও যুক্ত আছে।

- কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
ছয়ে আছেন বর্তমানে ফ্রান্সের ফুটবল সেনসেশন কিলিয়ান এমবাপে। টিনেজার হিসেবে পেলের পর ২০১৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে জোড়া গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
২০২২-এর ফাইনালে ট্র্যাজিক হ্যাটট্রিকও করেন তিনি। পাশাপাশি, বর্তমানে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাতেও পরিণত হয়েছেন এই ফরাসি গোলমেশিন।

- ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (জার্মানি)
জার্মান ‘কাইজার’ বলে খ্যাত ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ জিতেন। সেবার তিনি ডাচ তারকা ইয়োহান ক্রুইফের ‘টোটাল ফুটবল’-কে থমকে দেওয়ার অবিশ্বান্য ঘটনা ঘটান তিনি।

- লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিজের শেষদিন পর্যন্ত ছিলেন নিজের সময়ের সেরা ফুটবলার।
২০১৪ সালে জার্মানির কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের গ্লানি পেরিয়ে নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপে দেশকে ১৯৮৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জেতানোর নায়ক তিনিই। চলতি বছরের বিশ্বকাপেও তিনি দেশকে রানার্সআপ বানাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

- রোনালদো (ব্রাজিল)
ব্রাজিলের ‘ফেনোমেনন’ খ্যাত স্ট্রাইকার রোনালদো নাজারিও ডি লিমা।
১৯৯৮-এর ফাইনালে রহস্যময় অসুস্থতা আর ইনজুরির ধকল পেরিয়ে ২০০২ বিশ্বকাপে আট গোল করে রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তিনি দেখিয়ে দেন, কেন তিনি সেরা। আসরটির ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে তাঁর জোড়া গোলেই ২-০ ব্যবধানে জিতে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।

- ডিয়েগো ম্যারাডোনা (আর্জেন্টিনা)
মেক্সিকোতে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গোল’ আর ছয় ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা তাঁর ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ আজও ক্রীড়ামোদীদের চোখে ভাসে। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা। একাই রাঙিয়েছিলেন ৮৬-এর সেই আসর।
১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপেও খেলেন তিনি। শেষোক্ত আসরে ডোপ কেলেঙ্কারিতে তিনি নিষিদ্ধ হয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিতর্কের জন্ম দেন!

- পেলে (ব্রাজিল)
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে যত যা-ই ঘটে যাক না কেন, এখনও সবার সেরা হয়ে আছেন ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি জাদুকর পেলে।
১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়ার অনন্য রেকর্ড তাঁর দখলে। প্রথম আসরেই করেন হ্যাটট্রিক। তিনিই ফুটবল বিশ্বের একমাত্র তারকা, যিনি তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের অমর রেকর্ডের সাক্ষী হয়েছেন।











