লাল বলে নির্বাচকদের আফিফ প্রীতি আর কতদিন চলবে?

সাদা বলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত আফিফ হোসেনকে লাল বলে ফেরানোর চেষ্টা যেন থামছেই না নির্বাচকদের। সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। জিম্বাবুয়ে এ-এর বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক টেস্টে ব্যর্থ হওয়ার পরও তাঁকে পাঠানো হয় দক্ষিণ আফ্রিকা এ-এর বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলতে। প্রথম ম্যাচে ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারে বাংলাদেশ এ, যেখানে আফিফ আউট হন মাত্র ৮ রানে। এরপরও বাদ পড়েননি তিনি।

সাদা বলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত হলেও আফিফ হোসেনকে লাল বলে ফেরানোর চেষ্টা যেন থামছেই না নির্বাচকদের। সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। জিম্বাবুয়ে ‘এ’-র বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক টেস্টে ব্যর্থ হওয়ার পরও তাঁকে পাঠানো হয় দক্ষিণ আফ্রিকা এ-এর বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলতে। প্রথম ম্যাচে ইনিংস ও ৪১৩ রানে হারে বাংলাদেশ এ, যেখানে আফিফ আউট হন মাত্র ৮ রানে। এরপরও বাদ পড়েননি তিনি।

দ্বিতীয় ম্যাচে পচেফস্ট্রুমে তাওহিদ হৃদয় খেলেন অপরাজিত ৩৫০ রানের রেকর্ড গড়া ইনিংস—বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যা প্রথম শ্রেণির সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ, জাকের আলী করেন ৯৪, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৮৭ আর রেজাউর রহমান রাজা অপরাজিত ৩১—সেই একই পিচে আফিফের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২৯ রান। ব্যাটিং সহায়ক উইকেট, দলীয় স্কোর রেকর্ড ৬৭৬, তবু আফিফের রান খরা কাটেনি।

প্রশ্ন উঠছে, বোলিংয়েও যখন তেমন অবদান নেই, তখন কেন বারবার তাঁকে ফেরানো হচ্ছে লাল বলের বিবেচনায়? ২০১৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আফিফ কখনও জাতীয় দলেও লাল বলের ক্রিকেটের কাছাকাছি আসতে পারেননি।

তারপরও কেন আফিফ? এর পেছনে কয়েকটা কারণ হয়ত ভাবছেন নির্বাচকরা। প্রথমত, বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে মিডল অর্ডারে দীর্ঘদিনের একটা শূন্যতা পূরণের আশাতেই বারবার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে তাঁকে, ঘরোয়া চার দিনের ক্রিকেটে নতুন কাউকে গড়ে তোলার বদলে। দ্বিতীয়ত, অফ স্পিন বোলিংয়ের কারণে তাঁকে একজন বাড়তি ভারসাম্যরক্ষাকারী ক্রিকেটার হিসেবে দেখার একটা লোভও কাজ করে ব্যবস্থাপনার মধ্যে।

তবে, সেই সুযোগটা আফিফের পাওয়া দরকার ছিল সাদা বলের ক্রিকেটে। যদিও, বাস্তবতা হল, ঘরোয়া লিগে মাঝেমধ্যে একটা-দুটো ভালো ইনিংস খেললেই তাঁকে আবার জাতীয় দলের রাডারে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, অথচ ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নেই বহুদিন। এতে একদিকে যেমন আফিফের নিজের আত্মবিশ্বাসেই আঘাত লাগছে।

কারণ তাঁর স্বাভাবিক খেলার ধরনটাই আক্রমণাত্মক, লাল বলের ধৈর্যের ক্রিকেটের সঙ্গে যা ঠিক মেলে না,তেমনি ঘরোয়া চার দিনের ক্রিকেটে নিয়মিত রান করা ক্রিকেটারদের সুযোগও আটকে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—আফিফের প্রতি এই বিনিয়োগটা মোক্ষম হচ্ছে তো?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link