জিডি ট্রফির মঞ্চে ব্যাট হাতে আলো ছড়ালেন উদীয়মান ক্রিকেটার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন তিনি।
৯৩ বলের ইনিংসে ১১টি চার ও ২টি ছক্কার সৌজন্যে আব্দুল্লাহ করেন ১০১ রান। তাঁর ব্যাটিং ছিল আক্রমণাত্মক, ছন্দময় এবং দৃষ্টিনন্দন। স্ট্রাইক রেটও ছুঁয়েছে ১০৮.৬০।
শুধু তিন অঙ্কের রান নয়, ইনিংসটির ধরনই নজর কেড়েছে বেশি। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের মঞ্চে এমন আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং আব্দুল্লাহর প্রতিভারই আরেকটি ঝলক।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আবদুল্লাহ একদম অপরিচিত কেউ নন। বাঁহাতি ব্যাটিং, উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে দায়িত্ব আর ব্যাট হাতে আগ্রাসী মানসিকতা, সব মিলিয়ে নিজেকে সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার হিসেবেই নিজেকে গড়ে তুলছেন তিনি।

২০০৭ সালের ২ ডিসেম্বর ভোলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম মোহাম্মদ আবদুল্লাহর। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ঝোঁক। সময়ের সঙ্গে ব্যাট হাতে নিজের প্রতিভার জানান দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে।
আবদুল্লাহ মূলত একজন বাঁহাতি মিডল-অর্ডার ব্যাটার। সেই মিডল অর্ডারেই দায়িত্বশীল ও মারকুটে ইনিংস খেলে অনূর্ধ্ব ২৩ দলকে নিয়ে গেছেন রানের পাহাড়ে। মিরপুরে সাত উইকেট হারিয়ে অনূর্ধ্ব ২৩ দল বোর্ডে জমা করেছে ৩৪৫ রান।
আবদুল্লাহর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে আরও পরিণত করে তুলছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তাঁর ব্যাটে দেখা যাচ্ছে ধারাবাহিকতার আভাস। ২০২৫ সালে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলেছিলেন ৯৫ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস। এর পর ২০২৬ সালের আগস্টে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৯৪ রান।
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ছয় রান দূরে থেমেছিলেন সেদিন। কিন্তু, সেঞ্চুরিটা যেন খুব বেশিদিন অপেক্ষা করাল না তাঁকে। জিডি ট্রফিতেই পেয়ে গেলেন কাঙ্খিত মাইলফলক।

শুধু বয়সভিত্তিক ক্রিকেট নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটেও তিনি আলোচনার জন্ম দিচ্ছেন ইদানিং। গেল ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে রূপগঞ্জ টাইগার্সের হয়ে ৪৫৯ রান করেন তিনি। তিন হাফ সেঞ্চুরি ও এক সেঞ্চুরিতে সেবার ব্যাটিং গড় ছিল প্রায় ৬০ ছুঁইছুই, স্ট্রাইক রেট প্রায় ৮৫। যথার্থ যত্ন নিলে ভবিষ্যত রত্ন হয়ে উঠতে পারেন আবদুল্লাহ।










