নারী এশিয়া কাপ শেষ, চ্যাম্পিয়ন টাইটেল ভারতের নামের পাশে। তবে পুরো আসরে ভারত যেমন অপ্রতিরোধ্য ছিল, তেমন ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দিয়েও আলো কেড়েছেন অনেকেই। তাদের নিয়েই সাজানো এশিয়া কাপের সেরা একাদশ। চলুন দেখা যাক কারা ঠাঁই পেয়েছেন এখানে।
- শেফালি ভার্মা
শেফালি ভার্মা ভারতের জন্য একপ্রকার আশীর্বাদ হয়েই এসেছেন। পাঁচ ম্যাচে ২৩৬ রান করে হয়েছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। গড় ৪৭.২০, স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৭০। দুটি ফিফটির পাশাপাশি ফাইনালে খেলেছেন ৩৯ বলে ৬৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। মাত্র ২৪ বলে ফিফটি করে গড়েছেন নারী এশিয়া কাপের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। বল হাতেও দুটো উইকেট নামের পাশে আছে তার। পুরো টুর্নামেন্টে পাওয়ারপ্লেতে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষেত্রে শেফালির মতো প্রভাবশালী আর কাউকে পাওয়া কঠিন।

- স্মৃতি মান্ধানা
শেফালির সঙ্গে ওপেনিং জুটি গড়ার দায়িত্ব স্মৃতি মান্ধানার। পাঁচ ম্যাচে ২১৩ রান করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক স্মৃতি। ফাইনালে ৩৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস দিয়ে শুধু ম্যাচই জেতাননি, শেফালির সঙ্গে গড়েছেন ১২৯ রানের দুর্দান্ত ওপেনিং জুটি। টুর্নামেন্টে একটি সেঞ্চুরিও আছে তার। স্ট্রাইক রেটও ১৭০-এর ওপরে।

- চামারি আতাপাত্তু
শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ব্যাট হাতে অনেকটা নিষ্প্রভ ছিলেন বলা যায়। তাঁর কাছে যতখানি প্রত্যাশা ছিল, তা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ৯৯ রান এসেছে ব্যাট থেকে। তবে বল হাতে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাত্র পাঁচ রান দিয়ে সাত উইকেট, পুরো টুর্নামেন্টের সেরা বোলিং ফিগার। সব মিলিয়ে শিকার করেছেন ১২। তাই ব্যাটিং-বোলিংয়ের ভারসাম্যের জায়গা থেকে চামারি একাদশে থাকছেন। এমনকি এই দলের অধিনায়কও তিনি।

- হার্শিথা সামারাবিক্রমা
শ্রীলঙ্কা ফাইনালে উঠেছে, আর সেই যাত্রায় হার্শিথার ব্যাট ছিল বড় ভরসা। চার ম্যাচে ৮৯ রান, গড় ৪৪.৫০, টুর্নামেন্টে সেরা ব্যাটিং গড়ের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩৭ বলে অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংসটি ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ৪৪ রানে পাঁচ উইকেট থেকে শ্রীলঙ্কাকে টেনে তুলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও ছিলেন বেশ কার্যকর। রানসংখ্যায় শেফালি-স্মৃতির ধারেকাছে না থাকলেও ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় তার ইমপ্যাক্ট ছিল অনেক বড়।

- নীলাক্ষীকা ডি সিলভা
শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডারে সবচেয়ে কার্যকর ব্যাটারদের একজন নীলাক্ষীকা। চার ম্যাচে ৮৬ রান, গড় ৪৩.০০ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৬-এর ওপরে। হার্শিথার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে বিপর্যয় থেকে শ্রীলঙ্কাকে টেনে তোলার ক্ষেত্রেও তার অবদান ছিল। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষেও তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালে ২২ রান করলেও পুরো টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা তাকে একাদশে রাখার যথেষ্ট কারণ।

- ফাতিমা সানা
পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা টুর্নামেন্টে বল হাতে ছিলেন দারুণ কার্যকর। ৯ উইকেট নিয়ে উইকেটশিকারিদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছেন। ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ৭১ রান এসেছে আসরে। যেখানে সেমিফাইনালে ৪৭ রানের ইমপ্যাক্টফুল নকও রয়েছে।

- রিচা ঘোষ
উইকেটের পেছনে রিচার প্রভাবটা সংখ্যাতেও স্পষ্ট। পুরো টুর্নামেন্টে ৮টি ডিসমিসাল নিয়ে ছিলেন সর্বোচ্চ ডিসমিসাল করা উইকেটকিপার। এর মধ্যে ছয়টি ক্যাচ। ব্যাট হাতে ফাইনালে ১৩ বলে ১৭ রান করে দ্রুত রান তোলার চেষ্টাও করেছেন। সেরা একাদশে উইকেটকিপার হিসেবে তাই রিচা থাকছেন।

- দীপ্তি শর্মা
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি দীপ্তি শর্মা। ফাইনালের আগে ১১ উইকেট ছিল, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আরও তিনটি যোগ করে মোট ১৪। বোলিং গড়ও দুর্দান্ত, আর পুরো টুর্নামেন্টে তার নিয়ন্ত্রণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ফাইনালেও ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার রান তাড়াকে ধ্বংস করার কাজে বড় ভূমিকা রাখেন।

- শ্রী চরণী
ফাইনালের সবচেয়ে বড় নায়ক কে? শেফালি বা স্মৃতি অবশ্যই আলোচনায় থাকবেন, কিন্তু বল হাতে ম্যাচ শেষ করে দিয়েছেন শ্রী চরণী। ফাইনালে মাত্র ২০ রান দিয়ে ৪ উইকেট। পুরো টুর্নামেন্টে ১২ উইকেট নিয়ে হয়েছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, তার ইকোনমি ছিল মাত্র ৩.২৮ এবং বোলিং গড় ৫.৮৮, অর্থাৎ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রানও দিয়েছেন খুব কম।

- মারুফা আক্তার
বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠেছিল, আর সেই পথের অন্যতম বড় অস্ত্র ছিলেন মারুফা আক্তার। পুরো টুর্নামেন্টে ৮ উইকেট নিয়েছেন। সুইং ডেলিভারিতে প্রতিপক্ষকে চূর্ণবিচূর্ণ করেছেন। পেসার হিসেবে একাদশে তার জায়গাটা না থাকলেই নয়।

- নাশরা সান্ধু
একাদশের শেষ জায়গাটায় পাকিস্তানের নাশরা সান্ধু। সাত উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল স্পিনার। সবচেয়ে বড় বিষয়, তার ইকোনমি ছিল মাত্র ৩.৩১, অর্থাৎ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি রান আটকে রাখার কাজটাও করেছেন দারুণভাবে।

সব মিলিয়ে এশিয়া কাপের সেরা একাদশ দাঁড়াচ্ছে: শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মান্ধানা, চামারি আতাপাত্তু, হার্শিথা সামারাবিক্রমা, নীলাক্ষীকা ডি সিলভা, ফাতিমা সানা, রিচা ঘোষ, দীপ্তি শর্মা, শ্রী চরণী, মারুফা আক্তার, নাশরা সান্ধু!










