গাপকোর শেষ কামড়ে জয় হাতছাড়া ক্লপের জার্মানির

উয়েফা নেশনস লীগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইয়ুর্গেন ক্লপের জার্মানি বনাম জাভি হার্নান্দেজের নেদারল্যান্ডস। দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে শুরু থেকেই একের পর অ্যাটাকে ইয়োহান ক্রুইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারি মাতিয়ে রাখে এই দুই ইউরোপিয়ান জায়ান্ট।

উয়েফা নেশনস লীগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইয়ুর্গেন ক্লপের জার্মানি বনাম জাভি হার্নান্দেজের নেদারল্যান্ডস। দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে শুরু থেকেই একের পর অ্যাটাকে ইয়োহান ক্রুইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারি মাতিয়ে রাখে এই দুই ইউরোপিয়ান জায়ান্ট। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।

​ম্যাচের শুরু থেকেই নেদারল্যান্ডস ৪-৩-৩ ছকে খেলে জার্মানির রক্ষণভাগকে চরম চাপে রাখে। বল দখলে থাকার সময় ডাচদের এই ছক রূপান্তর হচ্ছিল ৩-২-৪-১ বিন্যাসে, যা মাঝমাঠে তাদের বাড়তি একজন খেলোয়াড়ের সুবিধা দেয়।

​মাঝমাঠে রায়ান গ্রাভেনবার্চ ও টিজ্জানি রেইজন্ডার্সের জোন ভিত্তিক প্রেসিং জার্মানির নিচ থেকে বল বের করে আক্রমণ সাজানোর পথ একপ্রকার বন্ধ করে দেয়। বাম উইংয়ে কডি গাকপো একের পর এক ওয়ান-অন-ওয়ান ডুয়েলে জার্মান ডিফেন্ডার ফিলিপ ট্রেউকে চাপে রাখেন।

অন্যদিকে ডান উইংয়ে ডেঞ্জেল ডামফ্রিসের হাই স্পিড ওভারল্যাপিং রান জার্মানদের মিড-ব্লক ভেঙে একাধিক সুযোগ তৈরি করে। ডাচদের নেওয়া ২২টি শট ও ১২টি কর্নারই প্রমাণ করে, অর্ধেকেরও বেশি সময় ম্যাচটি জার্মানির ফাইনাল থার্ডে বন্দি ছিল।

ইয়ুর্গেন ক্লপ তাঁর প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে দল সাজিয়েছিলেন কৌশলগত সতর্কতায়। জার্মানি মাঝমাঠে একটি কমপ্যাক্ট মিড ব্লক তৈরি করে খেলেছে, যেন ডাচদের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডাররা বক্সে ঢোকার ফাঁকা জায়গা না পায়।

​মাঝমাঠে জোশুয়া কিমিচের পজিশনিং সেন্স ও ইন্টারসেপশন ডাচদের অনেকগুলো হাফ স্পেস আক্রমণ নস্যাৎ করে দেয়। জার্মানির মূল পরিকল্পনা ছিল বল কেড়েই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়া।

৩২ মিনিটে ফেলিক্স এনমেচার গোলটি ছিল ডাচ রক্ষণের ক্ষণিকের ম্যান-মার্কিং ভুলের সুযোগ নিয়ে তৈরি করা এক নিখুঁত ট্রানজিশন গোল। কাই হাভার্টজ উঠে যাওয়ার পর জার্মান দলে দক্ষ ফিনিশারের অভাবে ১২টি শটের মধ্যে মাত্র দুইটিতে টার্গেট রাখাই তাদের জয়ের পথে বাধা সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয়ার্ধে নেদারল্যান্ডস তাদের ব্যাক লাইন আরও ওপরে তুলে আনে।   শেষ ১৫ মিনিটে জার্মানি ১-০ ব্যবধান ধরে রাখতে অতি-রক্ষণাত্মক ‘লো-ব্লক’ গঠন করে নিজেদের বক্সে গুটিয়ে যায়। একটানা চাপের মুখে জার্মান ডিফেন্সের মনোযোগ ক্ষুণ্ণ হয়। অ্যাডেড টাইমে বদলি নামা রুবেন ভ্যান বোমেল হাফ স্পেস থেকে মাপা ক্রস বাড়ালে ফার পোস্টে অরক্ষিত থাকা কডি গাকপো ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে গোল করে সমতা ফেরান।

পুরো ম্যাচে ট্যাকটিকাল প্রভাব ও আধিপত্যের দিক থেকে জাভির নেদারল্যান্ডসই এগিয়ে ছিল। তাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার জেদ শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট এনে দেয়। অন্যদিকে প্রথমার্ধে জার্মানির কাউন্টার অ্যাটাক সফল হলেও শেষ দিকে লিড ধরে রাখতে গিয়ে অতি-রক্ষণাত্মক হওয়াই তাদের তিন পয়েন্ট হাতছাড়া হওয়ার মূল কারণ।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link