মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের ক্ষত শুকানোর আগেই আবার হার। এবার সিঙ্গাপুরের কাছে এক গোলের ব্যবধানে, আসিয়ান কাপের প্রথম আসর থেকে প্রথম দল হিসেবে, এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিদায় নিল বাংলাদেশ। পয়েন্ট এখনো শূন্য। তবে এই হারের গল্পটা আগের ম্যাচের মতো নয়, আগেরবার দল ছিল ছন্নছাড়া, এবার দলটা ছিল আগের থেকে গোছানো, চেষ্টা টা ছিল দলের মাঝে , শুধু জেতার রসদটাই ছিল না।
শুরুটা ভালো ছিল, প্রথম পনেরো মিনিট বল ছিল বাংলাদেশের পায়ে, সিঙ্গাপুর পিছিয়ে ছিল। মালয়েশিয়া ম্যাচে যে বোঝাপড়ার অভাব চোখে লেগেছিল, মাঝের দুই দিনের অনুশীলনে সেটা অনেকটা জোড়া লেগেছে, বোঝা যাচ্ছিল। কিন্তু ছয় মিনিটে সামিত সোম হলুদ কার্ড দেখার পর মাঝমাঠের দৃঢ়তা আলগা হতে শুরু করল। ফাউল বাড়ল, ফাঁকা জায়গা বাড়লো, সিঙ্গাপুর সেই ফাঁকে ঢুকে নিজেদের ম্যাচ সাজিয়ে নিল। প্রথমার্ধে তাদের বল দখল ছিল ৬১%।
সিঙ্গাপুরের অস্ত্র ছিল পুরোনো, উইং আর ক্রস। ৩২ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে বিপজ্জনক শট ফেরালেন শ্রাবণ, ফিরতি বল আটকালেন তারিক কাজী। ম্যাচে বাংলাদেশের সেই একটাই ভালো মুহূর্ত, দুই মিনিট পরই নুর আদম আবদুল্লাহর ক্রসে স্টুয়ার্টের হেড এবং গোল। ৩৭ মিনিটে ইখসান ফান্দির শট পোস্টে না লাগলে ব্যবধান হয়ে যেত দুই। রাকিব হোসেন আর মোরসালিনকে প্রথমার্ধে খুঁজে পাওয়া যায়নি, যেন খোলসের ভেতরে বন্দী। আর সোহেল রানার অভাব মাঝমাঠে বারবার টের পাওয়া গেছে।

দ্বিতীয়ার্ধে চেহারাটা বদলে গেল, ৫৮ মিনিটে মোরসালিনের জায়গায় স্বাধীন, ৭১ মিনিটে সোহেল রানা আর ফাহামিদুল ইসলাম। রানা নামতেই পরিবর্তন টা চোখে লাগার মতো ছিলো, আর জামাল ভুঁইয়া ও রানা মিলে একের পর এক কর্নার আদায় করলেন । পুরো ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছে ১১টি কর্নার, সিঙ্গাপুরের মোটে ৩টি। বল দখলও শেষে ফিফটি ফিফটি ছিলো। পরিসংখ্যানে দেখলে মনে হবে বাংলাদেশই ম্যাচটা চালাচ্ছিল।
কিন্তু পরিসংখ্যানে যা দেখা যায়, স্কোরবোর্ডে তা ওঠে না। এগারোটা কর্নারের একটিও গোলে পরিণত হয়নি, অন টার্গেটে শট শূন্য। ডি বক্সে বল গিয়েছে, কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে ঠিকঠাক মাথা বা পা লাগানোর মতো কেউ ছিল না। ৬৪ মিনিটে সোমের একটি চেষ্টা আর ৭৮ মিনিটে সিঙ্গাপুর গোলরক্ষকের সেভ, এটুকুই। গোলের এত কাছে গিয়েও এত দূরে থাকাটা ফুটবলের সবচেয়ে নির্মম দৃশ্য।
থমাস ডুলির বদলি নামানো নিয়ে ব্যাপারটা চোখে লাগার মতো ছিলো, বাংলাদেশ যখন গোলের জন্যে মরিয়া তখন দূরপাল্লার শটে দক্ষ ফারহান পুরো ম্যাচ বেঞ্চে। তাঁকে নামালে ফল কী হতো, বলা যায় না। তবে যে দলের একটা গোল দরকার, তার সবচেয়ে ভালো বিকল্প অব্যবহৃত থেকে যাওয়াটা প্রশ্ন তোলার মতোই।

সিঙ্গাপুরের জন্য দিনটা দারুণ ছিল, ইন্দোনেশিয়ার কাছে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানো, একটি সুযোগেই ম্যাচ বের করা, বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা তৃতীয় জয়। বাংলাদেশের প্রাপ্তি আগের থেকে গোছানো খেলা, কম গোল হজম আর দ্বিতীয়ার্ধের চেষ্টা। অপ্রাপ্তি সেই পুরোনো রোগ, ফিনিশিং। স্ট্রাইকারদের কাছ থেকে গোল আসছে না, বাকিরা বল গুছিয়ে ডি বক্সে আনার পর ফিনিশিং দেওয়ার মতো কেউ নেই বা যিনি আছেন তিনি পারছেন না।
নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ততদিনে ডুলির দলটা একটা দল হয়ে উঠলেও গোল স্কোরারের অভাব পুরণ করতে না পারলে কেবল ভাল খেলাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে কিন্তু ম্যাচ জেতাটা আর হবেনা। !












