মরুর গরমে ‘বেমানান’ বাংলাদেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একেবারে অচেনা কোনো জায়গা নয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি কিংবা দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, সাদা বলের ক্রিকেটে এই মরুর দেশে অনেকবারই খেলেছে লাল-সবুজের দল। আমিরাতের মাটিতে এখন পর্যন্ত ৩৯টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের।

তবু এবার গল্পটা একটু অন্যরকম। এই প্রথম সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। আগামী ৯ অক্টোবর আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরু হবে একমাত্র টেস্ট। আর সেই ম্যাচের আগে বাংলাদেশের সামনে প্রতিপক্ষ শুধু আফগানিস্তান নয়, মরুর তীব্র গরমও।

৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি তাপমাত্রা। লু হাওয়া। চারদিকে বালুময় পরিবেশ। এমন কন্ডিশনে পাঁচ দিন, প্রতিদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা মাঠে থেকে টেস্ট ক্রিকেট খেলা যে সহজ নয়, সেটা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে বাংলাদেশ দল।

তাই ম্যাচের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই আমিরাতে পৌঁছে গেছে দল। দুবাইয়ে চলছে অনুশীলন। পাশাপাশি কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আয়োজন করা হয়েছে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের। প্রথম দিনেই অবশ্য ক্রিকেটারদের শরীরের ওপর মরুর গরমের প্রভাব বেশ ভালোভাবেই টের পাওয়া গেছে। মুশফিকুর রহিমদের দেখে মনে হয়েছে যেন রীতিমত উনুনের উত্তপ্ত আগুন পেরিয়েই মাঠে নেমেছেন তারা।

বাংলাদেশ দল দুবাইয়ের প্রস্তুতি শেষে আবুধাবির উদ্দেশে রওনা হবে। দুবাই ও আবুধাবির কন্ডিশনে খুব বড় পার্থক্য নেই। মূল চ্যালেঞ্জ তাই জায়গা বদল নয়, শরীরকে এই গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।

জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের কাছেও সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা এই গরম। তাঁর মতে, মরুভূমিতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় শুরুতে কিছুটা সমস্যা হতেই পারে। তবে সাত দিন আগে আমিরাতে আসা এবং দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়াকে তিনি দেখছেন বড় সুবিধা হিসেবে।

শুধু গরমই নয়, বাংলাদেশের সমস্যা আরও একটি জায়গায়। দলের ছয় গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার পুরো প্রস্তুতি পর্বে থাকতে পারেননি। জাপানে এশিয়ান গেমসের ব্যস্ততায় ছিলেন লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহীদ হৃদয়, শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ। অসুস্থতার কারণে এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে যাওয়া টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও দলের সঙ্গে শুরু থেকে ছিলেন না।

এশিয়ান গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের পতাকা হাতে অংশ নেওয়ার পর লিটনরা বুধবার সকালে দুবাই পৌঁছাবেন। ফলে টেস্টের আগে এক-দুই সেশনের বেশি অনুশীলনের সুযোগ নাও মিলতে পারে তাদের।

অর্থাৎ বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশের গুরুত্বপূর্ণ চার ব্যাটার ও দুই পেসার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না। সাদা বলের ক্রিকেটে আমিরাতের অভিজ্ঞতা থাকলেও লাল বলের ক্রিকেটের গল্পটা একেবারেই নতুন। মরুর গরমে শরীর কতটা টিকে থাকে, বোলাররা কতটা ধৈর্য ধরে, ব্যাটাররা কতক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেন, সেটাই বড় পরীক্ষা।

এই গরমে সামান্য অসতর্কতাই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই শরীর আর্দ্র রাখার ওপরই বাড়তি জোর দিচ্ছেন তিনি। প্রচুর পানি, তরল খাবার, ডাবের পানি কিংবা ফল, সবকিছুই থাকছে প্রস্তুতির অংশ। কারণ এই তীব্র গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে গেলে পেশিতে টান ধরার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশকে তাই ক্রিকেটীয় লড়াইয়ের বাইরে লড়তে হবে কন্ডিশনের বিপক্ষেও। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার আমিরাতের মরুর বুকে লাল বলের ক্রিকেট। তার ওপর প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে নামতে হবে দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে।

মরুর গরম কতটা সামলাতে পারে বাংলাদেশ, পাঁচ দিনের সেই পরীক্ষার উত্তর মিলবে ৯ অক্টোবর থেকে। আপাতত লড়াইটা শুরু হয়ে গেছে। প্রতিপক্ষ একদিকে আফগানিস্তান, আর অন্যদিকে ৪০ ডিগ্রিরও বেশি উত্তপ্ত মরুভূমি।

Share via
Copy link