নীরবেই কি হারিয়ে যাচ্ছেন সুরিয়াকুমার?

যে মাঠে একসময় সবাই তাঁর নামে হাততালি দিত, সেখানে এখন লাইনের পেছনে দাঁড়িয়ে পালা আসার অপেক্ষা করতে হবে। সেই অপেক্ষা তিনি মেনে নেবেন, নাকি ক্লাব ক্রিকেটের মাঠ থেকেই নতুন করে লড়াই শুরু করবেন, উত্তর এখন তাঁর  হাতেই।

কয়েক মাস আগেও তিনি বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে উৎযাপন করছিলেন । তার হাত ধরেই তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত, যাঁর নাম শুনলেই চোখে ভাসে মাঠের চারদিকে ছক্কার বৃষ্টি।

সেই সুরিয়া কুমার যাদবই এখন মুম্বাইয়ের রঞ্জি ট্রফির দলে জায়গা পেলেন না। খেলার ইচ্ছা ছিল, নিজেকে দলের জন্যে এভেইলেবল করে রেখেছিলেন, তবু ১৬ জনের স্কোয়াডে তাঁর নাম নেই। চণ্ডীগড়ের বিপক্ষে ১১ অক্টোবর থেকে ওয়াংখেড়েতে মুম্বাইয়ের সিজন  শুরু, আর সেখানে সুরিয়া থাকছেন না।

কারণটা যতটা ক্রিকেটীয় , তার চেয়ে বেশি আচরণের। মুম্বাইয়ের  খেলোয়াড়েরা অনেক দিন ধরে অনুশীলন করছেন, আর সুরিয়া সেই প্রি-সিজন ক্যাম্পে একদিনও যাননি। দিন দশেক আগে নির্বাচকেরা যোগাযোগ করলেও নাকি সাড়া মেলেনি। পরে নিজে থেকে জানিয়েছেন, খেলতে তিনি প্রস্তুত। ততদিনে দল গোছানোর কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে।

এমসিএর এক কর্মকর্তা বলেছেন, “শেষ পর্যন্ত এটা একটা দলগত খেলা। তাঁর হাতে সাম্প্রতিক কোনো রেড-বল খেলার অভিজ্ঞতা নেই, আর সুরিয়ার ব্যাপারে সবাই একমত ছিলেন।” নির্বাচকদের হিসাবটাও তিনি খোলাখুলিই বলেছেন। সুরিয়াকে নিলে কোনো এক তরুণকে বাদ দিতে হতো, আর সেটা তাঁদের কাছে ন্যায্য মনে হয়নি।

আরেক কর্মকর্তার কথায় নামটাও বেরিয়ে এসেছে। তিনি বলেছেন, “সুরিয়া ক্যাম্পের অংশ ছিল না, আর একটা রেড-বল ম্যাচও খেলেনি। সুরিয়াকে নিলে মুশির খানকে বাদ দিতে হতো। মুশির ভালো খেলছে, আর নির্বাচকেরা তরুণদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”

মুম্বাই ক্রিকেট বরাবরই এমন জায়গা, যেখানে নামের চেয়ে কাজের দাম বেশি। বিয়াল্লিশবারের রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই এর এই দলে গাভাস্কার থেকে শচিন, সবাইকেই ঘরোয়া ক্রিকেটের ধুলোমাখা মাঠ পেরিয়ে আসতে হয়েছে। ক্যাম্প এড়িয়ে সরাসরি দলে ঢুকে পড়ার সুযোগ সেখানে কোনো তারকার জন্যই নেই, ছত্রিশ বছরের বিশ্বজয়ী অধিনায়কের জন্যও না।

তবে দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফেরার পথ আছে, কিন্তু সহজ নয়। তাঁকে নামতে হবে এমসিএর ক্লাব ক্রিকেটে, পুলিশ শিল্ড কিংবা পুরুষোত্তম শিল্ডের মতো টুর্নামেন্টে, আর সেখানে রান করে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করতে হবে। আইপিএলের পরপর টি-টোয়েন্টি মুম্বাই লিগে খেলার পর থেকে তাঁকে আর মাঠে দেখা যায়নি। সাদা বলের ক্রিকেটে অবশ্য অবস্থা আগের মতোই।

আসন্ন ২০২৬-২৭ মৌসুমের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে তাঁকে বিবেচনায় রাখা হবে, আর শ্রেয়াস আইয়ার না থাকলে মুম্বাইয়ের নেতৃত্বও তাঁরই পাওয়ার কথা।

এদিকে সিদ্ধেশ লাডের নেতৃত্বে সাজানো দলে আছেন যশস্বী জয়সওয়াল আর সরফরাজ খান। আছেন শামস মুলানি, তুষার দেশপান্ডেও,হাতের চোটে অন্তত এক মাসের জন্য ছিটকে গেছেন শার্দুল ঠাকুর। মুম্বাই দল সুরিয়াকে ছাড়াই বেশ গোছানো, নজরটাও ভবিষ্যতের দিকে।

তাহলে কি সুরিয়া ফুরিয়ে যাচ্ছেন? একবার স্কোয়াডে না রাখার সিদ্ধান্ত দিয়ে এত বড় রায় দেওয়া ঠিক হবে না। ব্যাট হাতে তাঁর সেই অদ্ভুত শটগুলোর ক্ষমতা কোথাও চলে যায়নি। কিন্তু ছত্রিশ বছর বয়সে জাতীয় দলের জায়গা হারানো একজনের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটই শেষ ভরসা। সেখানে অনুশীলনে না আসা, ফোনে সাড়া না দেওয়া কিংবা দেরিতে ইচ্ছা জানানো ছোট ভুল থেকে বড় দাগ হয়ে দাঁড়ায়।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link