​সোলাঙ্কের শেষ মুহূর্তের গোলে ইউনাইটেডের পয়েন্ট ভাগাভাগি

ম্যাচের পারফরম্যান্স ও ট্যাকটিক্যাল ফ্রন্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্যারিকের সিদ্ধান্তের ভুল ও দে জের্বির আক্রমণাত্মক মানসিকতাই এই ড্রয়ের মূল কারণ।

​ওল্ড ট্রাফোর্ডে শেষ মুহুর্তের গোল হজমে টটেনহ্যাম হটস্পারের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে ব্রায়ান এমবেউমোর গোলে ইউনাইটেড এগিয়ে যাওয়ার পর ৭৭ মিনিটে রড্রিগো বেন্টানকুর লাল কার্ড দেখলে স্বাগতিকদের জয় একপ্রকার নিশ্চিতই মনে হচ্ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ডোমিনিক সোলাঙ্কের হেডে অবিশ্বাস্যভাবে সমতায় ফেরে রোবের্তো দে জের্বির শিষ্যরা।

ছয় ম্যাচে মাত্র ছয় পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে নিজেদের বাজে সূচনা অব্যাহত রাখল রেড ডেভিলরা। ম্যাচের পারফরম্যান্স ও ট্যাকটিক্যাল ফ্রন্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্যারিকের সিদ্ধান্তের ভুল ও দে জের্বির আক্রমণাত্মক মানসিকতাই এই ড্রয়ের মূল কারণ।

ম্যাচের প্রথম ৬০ মিনিট সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সফরকারী টটেনহ্যাম। ৪-২-৩-১ ফরমেশনে নেমে দে জের্বি টিমকে ম্যান-টু-ম্যান মিডফিল্ড প্রেসিংয়ের নির্দেশ দেন। সান্দ্রো তোনালি, লুকাস বার্গভাল ও কনর গ্যালাগার ইউনাইটেডের দুই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ইয়োরি টিলেমান্স ও কোব্বি মাইনুকে পুরোপুরি বোতলবন্দী করে রাখেন।

ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে ক্যারিক একযোগে তিনটি পরিবর্তন আনেন। এই পরিবর্তনের ফলে ইউনাইটেড দ্রুত ৪-৩-৩ ও ট্রানজিশনে ৪-২-৪ আকৃতি ধারণ করে। জিরকজি বক্সে হোল্ড-আপ প্লে শুরু করায় ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও ম্যাথুস কুনহা হাফ-স্পেসগুলো ব্যবহারের সুযোগ পান।

৭৩ মিনিটে ঠিক এই কাউন্টার-অ্যাটাক থেকেই সাফল্য আসে। স্পার্সের ব্যাকলাইন উন্মুক্ত পেয়ে কুনহার নিখুঁত পাসে ব্রায়ান এমবেউমো প্রথম টাচেই প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে জড়ান।

​৭৭ মিনিটে লুক শ-র সঙ্গে হাতাহাতির একপর্যায়ে হেডবাট করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন স্পার্স মিডফিল্ডার রড্রিগো বেন্টানকুর। ১০ জনের দলের বিরুদ্ধে ইউনাইটেডের উচিত ছিল উইং বাড়িয়ে বল পজেশন ধরে রাখা এবং খেলার টেম্পো নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু গোল করার পরপরই ক্যারিক তাঁর দলকে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হতে বাধ্য করেন।

শেষ মুহূর্তে সমতাসূচক গোলটি ইউনাইটেডের ডিফেন্সিভ স্ট্রাকচারের চরম দুর্বলতা উন্মোচিত করে। তোনালি সম্পূর্ণ চাপমুক্ত অবস্থায় পেনাল্টি বক্সে ইনসুইঙ্গার ক্রস বাড়ান। বক্সে মাগুইরি ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ থাকা সত্ত্বেও ডোমিনিক সোলাঙ্কেকে সঠিক ম্যান-মার্কিংয়ে রাখা যায়নি। লিসান্দ্রোকে এরিয়াল ডুয়েলে পেছনে ফেলে সোলাঙ্কে চমৎকার হেডে ল্যামেন্সকে পরাস্ত করে ম্যাচ ১-১ সমতায় ফেরান।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link