বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটের কথাও কি ফুরিয়ে আসছে? প্রশ্নটা উঠছিল কিছুদিন ধরেই। মে মাসে সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলে সিরিজসেরা হয়েছিলেন, কিন্তু তারপর ব্যাট যেন চুপ হয়ে গেল। জিম্বাবুয়েতে ৯ আর ৩৪, অস্ট্রেলিয়ায় ডারউইনে ৩৬, ম্যাকায় তে ৫ আর অপরাজিত ২৯। বয়স ৩৯, পরপর কয়েকটা টেস্টে বড় ইনিংসের দেখা নেই, প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।
আবুধাবিতে উত্তরটা এল মাঠেই। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নামল বাংলাদেশ, কিন্তু শুরুটা ভালো হলো না। লাঞ্চের ঠিক আগে মুমিনুল হক ফিরলেন, তার আগে গেছেন সাদমান ইসলাম, আর তানজিদ হাসান ৩১ রান করে আউট হলেন আহমাদজাইয়ের বলে। স্কোর তখন ৩ উইকেটে ৫৩। উইকেট ধীরে ধীরে ভাঙছে, গরম আর গুমোট, ম্যাচের চাহিদা একটাই, ক্রিজে টিকে থাকা। মুশফিক নামলেন, আর অধিনায়ক শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ঠিক সেটাই করলেন।
তাড়াহুড়ো নেই, ঝুঁকি নেই, বল দেখে দেখে খেলা। এক-দুই রানে স্কোর এগোচ্ছিল, ভুল বল পেলে আসছিল বাউন্ডারি। আফগান স্পিনাররা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চেষ্টা করলেন, একবার এলবিডব্লুর সিদ্ধান্ত গেল মুশফিকের বিপক্ষে, কিন্তু রিভিউতে দেখা গেল ব্যাটের কানা লেগেছে। ভাগ্যও তখন তাঁর পাশে, ৭৩ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করলেন, আর অন্যদিকে শান্তও ধৈর্য ধরে টিকে রইলেন। জুটি পেরিয়ে গেল দেড়শ রান, আফগানিস্তানের রিভিউও তখন শেষ, আর ম্যাচটা অনেকটাই চলে এল বাংলাদেশের দিকে।

সেঞ্চুরিটা অবশ্য আর হলো না। ৮১ রানে জিয়াউর রহমানের বল কিপারের মাথার ওপর দিয়ে তুলতে গিয়ে টপ এজ, স্লিপে শহীদির হাতে সহজ ক্যাচ। ৯টি চারে সাজানো ১৪৮ বলের ইনিংস, শতকটা নাগালেই ছিল। ফেরার পথে আফসোসটা নিশ্চয়ই ছিল, কারণ সেঞ্চুরির দরজায় এসে এভাবে ফেরা কারও জন্যই সুখের না। তবে ইনিংসটার কাজ ততক্ষণে হয়ে গেছে। দিনের শেষে বাংলাদেশের লিড দাঁড়াল ৩২৯ রানে। ব্যাটের কথা ফুরিয়ে যায়নি, মুশফিক শুধু অপেক্ষায় ছিলেন সঠিক সময়ের।










