দুই মেরুতে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ!

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতাটা তাই ভাবনার। ৩০০ রান তাড়া করা তো দূরের কথা, সাম্প্রতিক সময়ে ২০০ রান পার করাটাই যেন বিলাসিতা হয়ে উঠছে। কখনো শুরুতেই উইকেট পড়ে যাচ্ছে, কখনো মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে থাকছে, আবার কখনো বড় জুটি গড়ে তোলার আগেই ইনিংসের ছন্দ হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিপক্ষের বড় স্কোরের জবাব দেওয়া তো দূরের কথা, নিজেদের ইনিংসটাকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জায়গায় নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

৪৩০ রান! ওয়ানডে ক্রিকেটে এমন লক্ষ্য তাড়া করা যে কোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জই জিতে দেখাল শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের ৪২৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়েছিল তারা।

কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এক বল হাতে রেখেই জয়। আর এই ইনিংসটা দেখার পর বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে একটা প্রশ্ন না উঠে পারে না, যেখানে আধুনিক ক্রিকেটে সব দলই কমবেশি বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিতছে ম্যাচ, সেখানে বাংলাদেশের কাছে এখন ২০০ রানও কেন কঠিন হয়ে উঠছে?

বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে ৩০০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জয়ের ঘটনাই হাতে গোনা। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩১৩, ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৮, ২০১৫ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৯, ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩২২ এবং ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২০ রান তাড়া করে জিতেছে বাংলাদেশ। বড় লক্ষ্য তাড়া করার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আছে, কিন্তু তা যেন কেবলই কালেভদ্রে!

অথচ শ্রীলঙ্কা এবার যা করল, তা অবিশ্বাস্য! চাপের মুখে নিজেদের পরিকল্পনায় আস্থা রাখার উদাহরণও। শুরুতে উইকেট হারিয়েও তারা আতঙ্কিত হয়নি। জুটি গড়েছে, রান তোলার গতি ধরে রেখেছে, আবার প্রয়োজনের সময় আক্রমণও করেছে। ভাগ্যের জোরে এমন জয় আসে না। এর জন্য লাগে ব্যাটিংয়ের গভীরতা, পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা আর শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা।

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতাটা তাই ভাবনার। ৩০০ রান তাড়া করা তো দূরের কথা, সাম্প্রতিক সময়ে ২০০ রান পার করাটাই যেন বিলাসিতা হয়ে উঠছে। কখনো শুরুতেই উইকেট পড়ে যাচ্ছে, কখনো মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে থাকছে, আবার কখনো বড় জুটি গড়ে তোলার আগেই ইনিংসের ছন্দ হারিয়ে যাচ্ছে।

ফলে প্রতিপক্ষের বড় স্কোরের জবাব দেওয়া তো দূরের কথা, নিজেদের ইনিংসটাকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জায়গায় নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

একসময় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে ম্যাচ মানেই ছিল টানটান লড়াই। কখনো বাংলাদেশ এগিয়ে, কখনো শ্রীলঙ্কা। দুই দলের লড়াইয়ে উত্তেজনা থাকত, থাকত শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও। র‍্যাঙ্কিংয়ের ফারাকটাও খুব একটা ছিল না।

বরং বাংলাদেশ ছিল লঙ্কানদের চেয়ে এগিয়ে। ২০২৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে হারানো কিংবা ২০২৪ সালে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জেতা, তার সাম্প্রতিক প্রমাণ! যদিও গতবছর শ্রীলঙ্কার মাটিতে গিয়ে সিরিজ হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

কিন্তু এখনকার পারফরম্যান্স দেখলে প্রশ্ন জাগে, সেই বাংলাদেশ কোথায়? একদিকে ইংল্যান্ডের ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিচ্ছে শ্রীলঙ্কা, অন্যদিকে বাংলাদেশ থেমে যাচ্ছে ১৬০ কিংবা ১৭২ রানে।

ক্রিকেটে হার-জিত থাকবেই। কিন্তু লড়াই করার আগেই যদি ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে, তখন প্রশ্ন উঠবেই।

লেখক পরিচিতি

আল ওয়াসি তালুকদার

সাব এডিটর

Share via
Copy link