কখনো কখনো ক্যারিয়ারের একটিমাত্র সিদ্ধান্ত বা ভুল পদক্ষেপেই পুরো ভবিষ্যতের গতিপথ বদলে যায়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন এক নিয়মের ফাঁদে পড়ে আজ ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে থেকেও থমকে আছেন রোমার বেলজিয়ান বংশোদ্ভূত গোলকিপার মিলে সভিলার।
ইতালিয়ান সিরি ‘আ’-র গত মৌসুমে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জিতেছেন সভিলা। ক্লাবের হয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে ইউরোপের অন্যতম বিশ্বস্ত কিপার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও, দেশের জার্সিতে খেলার দরজাটা তাঁর জন্য অনেকটাই চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। আর এর পেছনে দায়ী ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার একটি কঠোর নিয়ম – ‘ওয়ান ওয়ে রুল’।
২০১৭ সালে ১৮ বছর বয়সে বেনফিকায় পাড়ি জমান তিনি। তবে বেলজিয়ামের জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। কারণ, সেই সময়ে বেলজিয়ামের গোলপোস্টের মূল প্রহরী হিসেবে রাজত্ব করছিলেন থিবো কোর্তোয়া। দীর্ঘ সময় কোর্তোয়ার পেছনে অপেক্ষায় থাকার আশঙ্কায়, ২০২১ সালে ২২ বছর বয়সে বাবার জন্মভূমির দেশ সার্বিয়া থেকে আসা প্রস্তাবে সাড়া দেন সভিলা।
২০২১ সালে কাতারের বিরুদ্ধে এক প্রীতি ম্যাচে বিরতির পর সার্বিয়ার জার্সিতে অভিষেক হয় সভিলারের। ম্যাচটিতে সার্বিয়া ৪-০ গোলে জয় পেলেও, সেই ৪৫ মিনিটের উপস্থিতিই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চিত্র বদলে দেয়।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ফুটবলার নিজের দেশ পরিবর্তন করে অন্য দেশের হয়ে সিনিয়র পর্যায়ে একটি ম্যাচ খেললেই, তিনি আর কখনো আগের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। এই নিয়মের ফলেই বেলজিয়ামে ফেরার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় সভিলারের।
অভিষেকের পর সার্বিয়া দলেও নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছিলেন না সভিলা। প্রীতি ম্যাচের পর বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কয়েকটি ম্যাচে স্কোয়াডে থাকলেও মূল একাদশে আর নামা হয়নি। ফলে সার্বিয়ার হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
২০২২ সালে বেনফিকা থেকে রোমায় যোগ দেওয়ার পর থেকে সভিলা একাধিকবার ফিফার কাছে তাঁর আবেদন করেছেন, যেন বেলজিয়ামের হয়ে খেলতে পারেন। বেলজিয়ামের টিম ম্যানেজমেন্ট ও তৎকালীন কোচও তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখালেও, ফিফার আইনের কারণে তারা অসহায় ছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেও তাঁর আবেদন ফিফা থেকে নাকচ হয়ে যায়।
আজ হয়তো থিবো কোর্তোয়ার সার্থক উত্তরসূরি হয়ে বেলজিয়ামের পোস্ট সামলানোর কথা ছিল তাঁরই। লাল জার্সিতে বিশ্বমঞ্চ কাঁপিয়ে ইতিহাস লেখার কথা ছিল এই রোমা তারকার। অথচ জীবনের এক অলক্ষ্যে লেখা সেই দিনে সার্বিয়ার গায়ে জড়ানো ৪৫ মিনিটের স্মৃতিটাই এখন তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ। সময় বহমান, অথচ একটিমাত্র ম্যাচের দীর্ঘ ছায়ায় অবরুদ্ধ হয়ে আছে একজন জাত গোলকিপারের আন্তর্জাতিক স্বপ্নের পুরোটা আকাশ।












