কাগজ-কলমে ফর্মে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা, ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু-এর সুবিধা এবং মৌসুমের শুরুটাও তাদের পক্ষে ছিল। বিপরীতে রিয়াল মাদ্রিদের সিজনের শুরুটা কিছুটা মন্থর গতিতে কাটলেও ডাগআউটে থাকা হোসে মরিনহোর ট্যাকটিকাল মুন্সিয়ানার সামনে সমস্ত সমীকরণ উল্টে গেল। স্নায়ুর লড়াইয়ে বার্সাকে ২-১ গোলে হারিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠ থেকে মহার্ঘ্য তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরল লস ব্লাঙ্কোসরা।
এই ম্যাচের আগে ঐতিহাসিক হেড টু হেডে দুই দলের জয় ছিল ১০৬টি করে এবং ৫২টি ড্র। রোমাঞ্চকর এই জয়ের সুবাদে রিয়াল এখন ১০৭টি জয় নিয়ে মুখোমুখি লড়াইয়ে এককভাবে এগিয়ে গেল।

মরিনহো এই ম্যাচের জন্য বেছে নিয়েছিলেন তাঁর চিরচেনা প্রাগমাটিক ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং রূপরেখা। বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে বার্সা যখন নিজেদের ছন্দে খেলার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই ফাঁদ পাতে রিয়াল। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায় সফরকারীরা। ৪১ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত ডান পায়ের শটে বল জাল জড়িয়ে রিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে।
বিরতির পর ম্যাচের গতিপথ পাল্টানোর চেষ্টা করে বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি হয়। পেদ্রির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে বক্সের ডান দিক থেকে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান রাফিনহা।

গোলের পর বার্সা যখন ঘরের মাঠে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিল, তখনই মরিনহোর মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে আসে কাউন্টার-অ্যাটাক। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে কিছুক্ষণ আগে বদলি হিসেবে নামা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার বাড়ানো বল থেকে গতিশীল বক্সে ঢুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেখান থেকে নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি তুলে নেন তিনি। এই গোলটিই ক্যাম্প ন্যুর গ্যালারিকে নিস্তব্ধ করে রিয়ালের ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করে।











