একজন বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য, একজন যুব ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা পেসার, একজন দ্বিশতক হাঁকানো ব্যাটার, একজন অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে সেঞ্চুরি করা ক্রিকেটার, আরেকজন জাতীয় দলের সাবেক অলরাউন্ডার। অর্জনের খাতায় প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা পরিচয়। অথচ ডি থ্রি ট্রফিতে তাঁদের জায়গা হয়নি!
প্রথমেই তানজিম হাসান সাকিবের প্রসঙ্গে আসা যাক। বাংলাদেশের এই পেসার যুব ক্রিকেট পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন একাধিকবার। হয়েছেন জাতীয় দলের নির্ভরতার নাম।
কিন্তু চোটের কারণে ডি থ্রিতে খেলা হচ্ছে না সাকিবের। নিলামের তালিকায় থাকলেও ঠাঁই হয়নি কোনো দলেই! বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লন্ডনে আছেন তিনি।

তবে সবচেয়ে বড় চমক বোধহয় রোহান উদ দৌলা বর্ষণের দল না পাওয়া। যুব ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি হ্যাটট্রিকও করেছিলেন।
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন নিজের গতিতে। ভবিষ্যতের এই তারকার দিকে তবু চোখ রাখেনি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি!
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রংপুর বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে অপরাজিত ২১০ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ড রয়েছে তাঁর। রয়েছে বেশ ভালো প্রতিভাও। বলছিলাম আব্দুল্লাহ আল মামুনের কথা। তবু ডি থ্রির চূড়ান্ত দলে নেই তাঁর নাম। অথচ এমন টুর্নামেন্টেই নিজেকে মেলে ধরার বিশাল মঞ্চ হতে পারত এটি!

আশিকুর রহমান শিবলীর দল না পাওয়াটাও বিস্ময়কর! বাংলাদেশের ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১২৯ রান করে জিতেছিলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়েছিলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও রয়েছে তাঁর তিনটি সেঞ্চুরি। এমন এল প্রতিভাবান ব্যাটারেরও কি না জায়গা হয়নি কোনো দলেই!
তরুণ তুর্কিদের নাম বলেই কি শেষ করব? একটু বুড়ো ঘোড়াদের দিকেও তো তাকানো যাক। যাঁদের অভিজ্ঞতার ঝলক দেখাও ক্রিকেটামোদীদের জন্য আনন্দের। তেমনই এক নস্টালজিক নাম নাসির হোসেন।

জাতীয় দলের রাডারে না থাকা অনেক খেলোয়াড়েরই মিলেছে সুযোগ। কিন্তু মেলেনি এই সাবেক অলরাউন্ডারের। ডি থ্রি নিলামে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁর জন্য বিড করেনি। অথচ ঘরোয়া লিগে মাঝেমধ্যেই ঝলক দেখান নাসির!
পাঁচ ক্রিকেটার, পাঁচ রকম বাস্তবতা। কারও সামনে চোট কাটিয়ে ফেরার চ্যালেঞ্জ, কারও সামনে নতুন সুযোগের অপেক্ষা। ডি থ্রির দল গঠনে সবাইকে নেওয়া সম্ভব নয়, সেটাই প্রতিযোগিতার নিয়ম। এসব বাস্তবতা মেনেই তবু সুন্দর হোক আগামীর পথচলা!











