দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্ধারকারী রিকেলটন!

একটা দল যখন একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায়, তখন একজন ব্যাটারের দায়িত্ব দলকে নতুন করে স্বপ্ন দেখানোও। নিউল্যান্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঠিক সেই কাজটাই করলেন রায়ান রিকেলটন। ডুবতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য যেন হয়ে উঠলেন উদ্ধারকারী জাহাজ। বহুদিন পর লাল বলের ক্রিকেটে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন, তাও এমন এক সময়ে, যখন দলকে তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।

একটা দল যখন একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায়, তখন একজন ব্যাটারের দায়িত্ব দলকে নতুন করে স্বপ্ন দেখানোও। নিউল্যান্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঠিক সেই কাজটাই করলেন রায়ান রিকেলটন। ডুবতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য যেন হয়ে উঠলেন উদ্ধারকারী জাহাজ। বহুদিন পর লাল বলের ক্রিকেটে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন, তাও এমন এক সময়ে, যখন দলকে তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে তুলে নিয়েছিল ১০০ রানের লিড। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে সমীকরণটা ছিল পরিষ্কার, আগে ঘাটতি মেটাও, তারপর ম্যাচে ফেরার রাস্তা খোঁজো। কিন্তু সেই পথটা যে এতটা বন্ধুর হবে, কে জানত! ১৩১ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে কার্যত খাদের কিনারায় স্বাগতিকরা। ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভাব রিকেলটনের। ম্যাথু ব্রিটজকেকে সঙ্গে নিয়ে সামাল দিলেন প্রাথমিক ধাক্কা।

ব্রিটজকে ফিরলে দায়িত্ব ভাগ করে নিলেন উইয়ান মুল্ডার। এরপর দুজনের ব্যাটে বদলাতে শুরু করে ম্যাচের গতিপথও। যে দক্ষিণ আফ্রিকা একসময় ধুঁকছিল, তারাই ধীরে ধীরে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ ফিরিয়ে দিতে শুরু করল।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের যাবতীয় পরিকল্পনা সামলে ২১৮ বলে তুলে নেন দুর্দান্ত ১০১ রান। লেগ স্টাম্পের বল স্কয়ারের পেছনে গ্ল্যান্স করে দুই রান নিয়েই পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। ব্যাট উঁচিয়ে উদ্‌যাপন, গ্যালারিতে গর্জন, আর মুল্ডারের সঙ্গে উষ্ণ আলিঙ্গন। মজার ব্যাপার, রিকেলটনের সর্বশেষ টেস্ট সেঞ্চুরিটিও ছিল ঠিক ১০১ রানের! শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বছর দুয়েক আগে!

শেষ পর্যন্ত রান আউট হয়ে ফিরলেও ততক্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অনেকটাই উদ্ধার করে ফেলেছেন তিনি। যখন প্যাভিলিয়নে ফিরলেন ততক্ষণে দলের স্কোর ৩৩৫ পেরিয়েছে।

এই সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পাতাতেও নিজের নাম লেখালেন রিকেলটন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার ব্যাটারদের সেঞ্চুরির তালিকায় এবার যুক্ত হলো তার নাম। যেখানে আগে জায়গা করে নিয়েছিলেন ডেনিস লিন্ডসে, জন ওয়েইট, এবি ডি ভিলিয়ার্স ও কুইন্টন ডি ককের মতো তারকারা।

১৯৬৬ সালে জোহানেসবার্গে ডেনিস লিন্ডসের ১৮২ রানের ইনিংসটি এই তালিকার সর্বোচ্চ। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তার আরও দুটি সেঞ্চুরি রয়েছে, ১৩৭ ও ১৩১ রানের। জন ওয়েইটের রয়েছে ১৩৪ ও ১১৫, এবি ডি ভিলিয়ার্সের ১৬৯ ও ১১৬ এবং কুইন্টন ডি ককের ১০৪ রানের ইনিংস। এবার সেই অভিজাত তালিকায় যুক্ত হলো রিকেলটনের ১০১।

তবে রেকর্ডের চেয়েও বড় হয়ে থাকল ইনিংসটির সময়োপযোগিতা। কারণ, যখন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল একজন উদ্ধারকারীর, তখনই হাল ধরেছিলেন রিকেলটন।

লেখক পরিচিতি

আল ওয়াসি তালুকদার

সাব এডিটর

Share via
Copy link