দল যখন মাত্র পাঁচ রানে চার উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে, তখন উইকেটে এলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। আর তিনি যখন সাজঘরে ফিরলেন, ততক্ষণে দলের সংগ্রহ পৌঁছে গেছে ১৯৫ রানে। জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণকে একা হাতে গুঁড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টির মঞ্চে মাত্র ৫০ বলে ১১৬ রানের এক বিধ্বংসী ও ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরি তুলে নেন এই আফগান অলরাউন্ডার।
সাধারণত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে টপ অর্ডার ব্যাটারদের জন্যই সেঞ্চুরির সুযোগ থাকে। সেখানে ইনিংসের এত দ্রুত বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার পর ছয় নম্বরে নেমে শতক হাঁকানো মানে আক্ষরিক অর্থেই রূপকথার জন্ম দেওয়া। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম কোনো ব্যাটার ছয় নম্বর কিংবা তার নিচে নেমে শতকের কীর্তি গড়ল।

শুরুর ধাক্কা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে সামাল দেওয়ার পর সময়ের সাথে সাথে রূপ বদলান ওমরজাই। তাঁর শট সিলেকশন, টাইমিং আর নিখুঁত প্লেসমেন্ট জিম্বাবুয়ের বোলারদের যেন পাত্তাই দেয়নি।
বিশেষ করে ইনিংসের শেষভাগে তাঁর ব্যাট থেকে দেখা গেছে অবিশ্বাস্য এক তাণ্ডব। ১৭তম ওভার যখন শুরু হয়, তখন ওমরজাইয়ের ব্যক্তিগত রান ছিল ৭৫। এরপর ব্র্যাড ইভানসের করা ওভারটির প্রথম পাঁচটি বলেই ঝড় তোলেন তিনি। একে একে হাঁকান তিন ছক্কা ও দুই চার। ওই এক ওভারেই ম্যাচ ও নিজের ইনিংসের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়, এবং ওভার শেষেই ব্যক্তিগত রান ১০০ টপকে ১০২-এ পৌঁছে যায়।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এটি ওমরজাইয়ের ক্যারিয়ারের প্রথম শতক, যা তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। দলের চরম বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করে যেভাবে তিনি ইনিংসটিকে পাহাড়সম সংগ্রহের দিকে নিয়ে গেছেন, তা কেবল একটি ম্যাচ জেতানো ইনিংসই নয়, বরং আফগান ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা একটি অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।











