৪৩০ রান তাড়া করে জয়ের পর ৩৮৭ রান কি আর শ্রীলঙ্কার কাছে খুব বড় কিছু? লাহোরে ইংল্যান্ডের রানপাহাড়ের সামনে সবার মধ্যে কৌতূহল ছিল একটাই, আবারও কি অসম্ভবকে সম্ভব করবে লঙ্কানরা?
পাভান রত্নায়েকের ব্যাট যখন আগুন ঝরাতে শুরু করল, তখন মনে হচ্ছিল, ইতিহাসের গল্প বুঝি আবারও নতুন করে লেখা হবে। কিন্তু এবার রূপকথার শেষ পাতায় হাসিটা শ্রীলঙ্কার নয়, ইংল্যান্ডের।
রত্নায়েকে যেন ইংল্যান্ডের বোলারদের বুঝিয়ে দিলেন, আগের ম্যাচের সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। মাত্র ৭০ বলে সেঞ্চুরি! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে রান তাড়া করতে নেমে দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় কুমার সাঙ্গাকারার পাশে জায়গা করে নিলেন তিনি।

২০১৫ সালে ওয়েলিংটনে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৭০ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন সাঙ্গাকারা। এবার করাচিতে সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি রত্নায়েকের।
শ্রীলঙ্কার হয়ে রান তাড়ায় দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির তালিকায় অবশ্য সবার ওপরে থিসারা পেরেরা। ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর সেঞ্চুরি এসেছিল মাত্র ৫৭ বলে। এরপর সাঙ্গাকারার ৭০ বল, আর সেই একই গতির গল্পে এবার রত্নায়েকে।
কিন্তু ব্যক্তিগত রেকর্ড আর দলীয় জয় যে এক গল্প নয়! রত্নায়েকের ১১৮, কুশল মেন্ডিসের ৮৯, তবু ৩৩১ রানেই থামতে হলো শ্রীলঙ্কাকে।

শ্রীলঙ্কার সামনে পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করানোর নেপথ্যে ছিলেন বেন ডাকেট। ১৩২ বলে ১৬৭ রান! ২৪টি চার, অথচ একটিও ছক্কা নেই। বলকে আকাশে তুলে নয়, মাঠের ফাঁক খুঁজে সীমানার বাইরে পাঠিয়েছেন বারবার। বিশেষ করে লেগ সাইডে পুল আর হুক শটে শ্রীলঙ্কার শর্ট বলের পরিকল্পনাকে বারবার এলোমেলো করে দিয়েছেন তিনি।
টম ব্যান্টনের ৭৪ রানের সঙ্গে ডাকেটের ১৬৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ইংল্যান্ডকে দেয় শক্ত ভিত। এরপর হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে ৭৫ বলে ১০৭ রানের জুটি ম্যাচের গতিপথ আরও স্পষ্ট করে দেয়। ৩৮তম ওভারে ২ উইকেটে ২৭০ রান, তখন ইংল্যান্ডের সামনে ৪০০ পেরোনোর হাতছানি।

শেষ ১০ ওভারে ৯৪ রান তুললেও ইংল্যান্ড থামে ৩৮৬-এ। লাহোরে ওয়ানডেতে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আসিথা ফার্নান্দো ৬৩ রানে দুটি উইকেট নিয়ে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন।
কিন্তু এশান মালিঙ্গার ১০১ রান খরচ আর দুনিথ ওয়েলালাগের ৭৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকা ইংল্যান্ডের ব্যাটিং আধিপত্যের ছবিটাই তুলে ধরে।
শেষ ম্যাচ জিতে আদৌ লাভের লাভ কতটুকুই বা হলো ইংলিশদের? ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের মহারণে দেখা যাবে শ্রীলঙ্কা আর পাকিস্তানকে।

আগের দুই সহজ জয় জিততে না পেরে হ্যারি ব্রুকের দল কী কিছুটা আফসোস করছে?











