৯১টা বল খেললেন নাঈম হাসান । এর মধ্যেই উপরের সারির ব্যাটারদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন কিভাবে রান করতে হয়। টেল এন্ডার হয়েও বুঝিয়ে দিয়েছেন কিভাবে ধৈর্য্য নিয়ে উইকেটে থাকতে হয়। ফিফটি পেয়েছেন তবে সেই ফিফটির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে সেই ৯১ বল দায়িত্ব নিয়ে খেলা।
মিরপুরে চতুর্থ দিনের সকালে বাংলাদেশের ভরসা বলতে প্রায় কিছুই ছিল না, অথচ লড়াইটা চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এসে পড়ল সেই মানুষটির ওপরই, যিনি আগের দিন বল হাতে দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন। তৃতীয় দিন ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ এ গুটিয়ে দিয়েছিলেন নাঈম হাসান, ওই দিনই টেস্টে ৫০ উইকেটও পূর্ণ হয়। চতুর্থ দিনে ব্যাট হাতে প্রথম টেস্ট ফিফটির দেখা পেলেন।
তবে এই এই রানের হিসাবটা একাবারেই তুচ্ছ নাঈমের বীরত্বের সামনে। ৫৩ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর মতো শক্তি আসলে ছিল না। ব্যাটাররা সবাই আত্মাহুতী দিয়েই ফিরে গেছেন ততক্ষণে। আশার আলো নিভু নিভু পর্যায়ে। বিন্দুমাত্র লড়াই করার মতোও যে স্কোরবোর্ডে নেই। সেই সময় নাঈম এলেন আলোকবর্তিকা হাতে।

চতুর্থ দিনের প্রথম ওভারেই জোমেল ওয়ারিকানের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ২২ রানে ফিরে গেলেন জাকের, বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ৮৪। এরপর থেকে লিড বাড়ানোর পুরো ভারটা পড়ল নাঈমের কাঁধে।
পিচ তখন টার্ন করছে, বল কখনো নিচু হয়ে আসছে, কখনো লাফিয়ে উঠছে। নাঈম সেখানে তাড়াহুড়ো করলেন না, কখনো এগিয়ে এসে, কখনো হাঁটু গেড়ে সুইপ করে এক-দুই রান বের করে আনলেন, আর ফাঁক পেলেই একটা বাউন্ডারি। ২৯ রানে রোস্টন চেজ সহজ একটা ক্যাচ ফেলে দিলেন, নাঈম বাড়তি সুযোগটা লুফে নিলেন পুরোপুরি।
শেষমেষ ৯১ বলের লড়াকু ইনিংস খেলে গেলেন। রানসংখ্যা ৫১। ব্যাটাররা যেখানে ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে নাঈম দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে গেছেন। বল হাতেও যেমন ব্যাট হাতেও ঠিক তেমনই। তবুও সুযোগের দরজাটা তাঁর জন্য কমই খোলা থাকে টেস্ট দলে।











