আকাশ আর মাটির ফারাকের গল্প অনেক শোনা, কিন্তু বাইশ গজে সেটা চোখের সামনে দেখা যায় সামান্যই। গ্যারবেরা টেস্টে অস্ট্রেলিয়া সেটাই দেখল। একপাশে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চির টেম্বা বাভুমা, অন্যপাশে ৬ ফুট ৮ ইঞ্চির মার্কো ইয়ানসেন। সপ্তম উইকেটে দুজনে মিলে তুললেন ১৩২ রান, আর সেই জুটিতেই ম্যাচে ফিরল দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রশ্নটা সোজা, টেস্টের কোনো সেঞ্চুরি জুটিতে দুই ব্যাটারের উচ্চতায় এত বড় তফাৎ কি আগে কখনো দেখা গেছে?
হিসাব বলছে, বাভুমা আর ইয়ানসেনের ফারাক অন্তত ৪১ সেন্টিমিটার, মানে প্রায় ১৬ ইঞ্চি। তবে এটা নিয়ে সংশয় ত রয়েছে, কারণ ক্রিকেটারদের উচ্চতা নিয়মিত লিখে রাখা হয় না আর একেক জায়গায় একেক মাপ পাওয়া যায়। ইয়ানসেনকেই কোথাও বলা হয় ৬ ফুট ৯, কোথাও ৬ ফুট ১০। সেটা সত্যি হলে ফারাক আরও বাড়বে, কমার কোনো সুযোগ নেই।

অন্য বড় জুটিগুলো পাশে রাখলে ছবিটা পরিষ্কার হয়। ২০১৯ সালে ব্রিজটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ২৯৫ রান যোগ করেছিলেন জেসন হোল্ডার আর শেন ডাউরিচ। একজন ৬ ফুট ৭, অন্যজন প্রায় ৫ ফুট ৭, তফাত ৩০ সেন্টিমিটারের মতো। ১৯৮৯ সালে পার্থে অভিষেক টেস্টে টম মুডি আর ডেভিড বুনের জুটি থেকে এসেছিল ১৪৯ রান। মুডি ৬ ফুট ৬, বুন আনুমানিক ৫ ফুট ৬, ফারাক সেই ৩০ সেন্টিমিটারের আশপাশে। বুনকে অনেক ওয়েবসাইট অবশ্য মাত্র ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি দেখায়, যেটা সম্ভবত ভুল।
জোয়েল গার্নার আর গাস লোগির জুটিও কম মজার নয়। গার্নার ৬ ফুট ৮, লোগি ৫ ফুট ৪, ঠিক বাভুমা-ইয়ানসেনের মাপ। দুজন কয়েকবার একসঙ্গে ব্যাট করেছেন, তবে তাঁদের সেঞ্চুরর রেকর্ড নেই। এখানেই তাই বাভুমা আর ইয়ানসেন এগিয়ে।

সবার ওপরে থাকার সম্ভাবনা অবশ্য পাকিস্তানের মোহাম্মদ ইরফানের। তাঁকে ৭ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা বলা হয়, যদিও এই মাপ কেউ আলাদাভাবে যাচাই করেছে কি না, নিশ্চিত নয়। টেস্টে তাঁর সঙ্গে ব্যাট করা সবচেয়ে খাটো সঙ্গী ছিলেন উইকেটকিপার আদনান আকমল, ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। দুজনের ফারাক ৫১ সেন্টিমিটার, বাভুমা-ইয়ানসেনের চেয়ে পুরো ১০ সেন্টিমিটার বেশি। কিন্তু তাঁদের জুটি শতরানের কোঠায় পৌঁছায়নি, তাই সেঞ্চুরি জুটির হিসাবে বাভুমা আর ইয়ানসেনই আপাতত সবার ওপরে।
আকাশ আর মাটির এই জুটি দেখিয়ে দিল, ব্যাটিংয়ে মাথা কত উঁচুতে থাকল সেটা বড় কথা নয়। ক্রিজে টিকে থাকার লড়াইটা মাথার ভেতরেই, সেখানে এক ফুট বা দেড় ফুটের তফাত কোনো হিসাবেই আসে না।










