অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ডুবল লিভারপুলের রক্ষণ

ঘরের মাঠে ফেনারবাহচের কাছে লিভারপুলের ৩-২ গোলের এই পরাজয় কেবল একটি ম্যাচ হার নয়, বরং কোচ আন্দোনি ইরাওলার কৌশলগত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং অপরিপক্ব রোটেশন নীতির নির্মম পরিণতি।

ইউরোপীয় ফুটবলের রাত মানেই আকস্মিকতার রোমাঞ্চ। ইস্তাম্বুলে যার প্রমাণ মিলেছে নতুন করে। ঘরের মাঠে ফেনারবাহচের কাছে লিভারপুলের ৩-২ গোলের এই পরাজয় কেবল একটি ম্যাচ হার নয়, বরং কোচ আন্দোনি ইরাওলার কৌশলগত অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং অপরিপক্ব রোটেশন নীতির নির্মম পরিণতি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ব্যস্ত সূচি ও ফিফা উইন্ডোর ধকল সামলাতে গিয়ে কোচ যেভাবে একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত রেডসদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের উচ্চাশাকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইরাওলার পরিকল্পনায় একধরনের তাড়াহুড়ো ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ছাপ স্পষ্ট ছিল। আগের ম্যাচগুলোতে যারা নিয়মিত একাদশে ছিলেন, তাদের বেঞ্চে বসিয়ে রেখে মাঠে নামানো হয় তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার এক অদ্ভুত মিশ্রণ।

একদিকে যখন মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে গিয়ে লিভারপুল নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ হারাচ্ছিল, অন্যদিকে ইস্তাম্বুলের ঘরের মাঠের চেনা পরিবেশে ফেনারবাহচে হয়ে উঠেছিল আরও বেশি আক্রমণাত্মক। প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখার বা একটু হালকাভাবে নেওয়ার যে খেসারত ইউরোপীয় মঞ্চে গুনতে হয়, ইরেওলার দলকেও ঠিক সেটাই দিতে হয়েছে।

রোটেশন নীতি যে দলের স্কোয়াড গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যখন তা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি করা হয় এবং দলের মূল কাঠামো ভেঙে পড়ে, তখন তা মাস্টারপ্ল্যান না হয়ে বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে।

ফেনারবাহচের বিপক্ষে লিভারপুলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং মাঝমাঠের নিষ্ক্রিয়তা সেই বাস্তবতাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কোচের এই পরীক্ষার খেসারত কেবল একটি ম্যাচের পয়েন্টই হাতছাড়া হলো না, বরং ইউরোপের মাটিতে লিভারপুলের ট্যাকটিক্যাল শক্তির ভিত নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link