‘৪০ গড় হলে সাকিবের মত অটোচয়েজ থাকতাম’

বাংলাদেশের প্রায় প্রথম সব জয়ের সাথেই নায়ক হিসেবে জড়িয়ে ছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের নাম। ক্যারিয়ার জুড়ে খেলেছেন অসংখ্যা ম্যাচ জয়ী ইনিংস। কিন্তু কখনোই ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ছিলেন না তিনি। অনেক সময় উইকেটে থিতু হয়েও আউট হতেন দৃষ্টিকটু ভুল করে। এই ভুল গুলোর জন্য ব্যাটিং গড়টাও ঠিক তার পক্ষে কথা বলে না।

আশরাফুল নিজেও উপলব্ধি করছেন এই ভুল বাকি সবার চেয়ে তিনি একটু বেশিই করেছেন। খেলা ৭১-এর নিয়মিত আয়োজন ‘ছেলেখেলা লাইভ’-এ এসে জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক জানিয়েছেন ঐ ভুল যদি না করতো আর তার ব্যাটিং গড় যদি ৪০ এর উপরে থাকতো তবে সাকিবের মত নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরেই দলে অটোমেটিক খেলতে পারতেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘হ্যা সেটা তো অবশ্যই, এখনো যতক্ষণ ব্যাট করি মনে হয়না যে কোন বোলার আউট করতে পারবে। আসলে ব্যাটসম্যানরা সিলি আউটই হয় সবাই। আমি একটু বেশি হতাম। অবশ্যই এই জিনিনটা যদি কম হতো ভালো হতো, আরো বেশি ইনিংস উপহার দিতে পারতাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটা ব্যাটসম্যান এটা আশা করে। ৪০ এর উপর ব্যাটিং গড় থাকলে খুবই ভালো। এটা থাকলে তো আমি এখনো খেলতে পারতাম। আমার গড় ২২-২৪ বলে এখন আমি খেলতে পারছি না। ৪০ গড় থাকলে আমি সাকিবের মত অটোমেটিক খেলতে পারতাম নিষেধাজ্ঞা থেকে এসেই।’

ব্যাটিং গড় ২২-২৪ হলেও ব্যাট হাতে ম্যাচ জয়ী যতো গুলো ইনিংস খেলেছেন সেটাই অমরত্ব দিয়েছে মোহাম্মদ আশরাফুলকে। এত সব ইনিংসের ভিতর আশরাফুলের প্রিয় ইনিংস কোনটি? এমন প্রশ্নের জবাবে এই ব্যাটসম্যান জানিয়েছেন সব গুলো সেঞ্চুরি ও ম্যাচ জয়ী ইনিংসই তার প্রিয়।

তবে তার কাছে সেরা মনে হয় ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ম্যাচ জয়ী অপরাজিত ৮৭ রান। তখন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে ওটাই ছিল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। আর টেস্টে আশরাফুলের সেরা ইনিংস ভারতের সাথে ১৫৮ রান। দীর্ঘ দিন টেস্টে বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল সেটিই।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রিয় তো আসলে আমার সব গুলো সেঞ্চুরি ও ম্যাচ জয়ী ইনিংস গুলো। অস্ট্রেলিয়ার সাথে সেঞ্চুরিটা তো অবশ্যই একটু আলাদা আমার এবং বাংলাদেশের। যদি ব্যাটিংয়ের কথা যদি বলেন, আমার ক্যারিয়ারে সেরা একটা ইনিংস যদি বেছে নিতে বলেন ওয়ানডেতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে ৮৭, আর টেস্টে যদি বলেন আমি বলবো ভারতের সাথে ১৫৮, আমি বলবো এটা সেরা।’

ক্যারিয়ার জুড়ে এই ইনিংস গুলো খেলার পথে জুটি গড়েছেন অনেকের সাথেই। ব্যাটিং পার্টনার হিসাবে সবাইকে ভালো লাগলেও আশরাফুল জানিয়েছেন রানিং বি টুইন দ্য উইকেটে যারা ভালো ছিল ও মারতে পারতো তাদের সাথে ব্যাট করতে বেশি মজা পেতেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ব্যাটিং পার্টনার হিসাবে আমার সবাইকে ভালো লাগতো। যারা রানিং বি টুইন দ্যা উইকেটে ভালো তাদের সাথে ব্যাট করে বেশি মজা লাগে। আফতাবের সাথে বেশি ভালো লাগতো, সুমন ভাই, জাবেদ ভাইয়ের সাথে ভালো জুটি আছে, মুশফিকের সাথে আছে, সাকিবের সাথে আছে। যারা রানিং বি টুইন দ্যা উইকেটে ভালো, মারতে পারে তাঁদের সাথে ব্যাটিং করাটা সহজ।’

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link