প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা ক্রিজে জমে গেছে। বরফ গলাতে হবে, নইলে সমূহ বিপদ। উইকেট দরকার, অক্ষর প্যাটেলকে বল দিয়ে দাও। ব্যাটিং অর্ডার ভারসাম্য হারিয়েছে, জিততে হলে কাউকে মোমেন্টাম ধরতে হবে। কে আছে এমন? অক্ষরকে পাঠিয়ে দাও, ও সামলে নেবে সবটা। ভারতীয় ক্রিকেটে বরাবরই তিনি ‘ইউটিলিটি ক্রিকেটার’ হিসেবে পরিচিত। সেই পরিচয়ের প্রতি সুবিচার করলেন আরও একবার। ব্যাটে-বলে সমান দাপট দেখিয়ে ইংল্যান্ড বধের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কলকাঠিটা যে তিনিই নেড়েছেন, তা বললেও খুব একটা বাড়িয়ে বলা হবে না।
আগে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ড একসময় ছিল শক্ত অবস্থানে। উদ্বোধনী জুটিতে ৬১ রান তুলে স্বস্তিতেই ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু এরপর ভারতীয় পেসারদের দাপটে মাত্র ১০৭ রানেই হারিয়ে ফেলে ছয় উইকেট। ঠিক তখনই জো রুট ও লিয়াম ডসনের ১২১ রানের অসাধারণ জুটি ইংল্যান্ডকে আবারও ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
তবে সেই জুটিকেও আর বেশিদূর এগোতে দেননি অক্ষর প্যাটেল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের বড় সংগ্রহের স্বপ্নে আঘাত হানেন তিনি। নিজের ১০ ওভারে ৬২ রান খরচায় শিকার করেন চারটি উইকেট। তবে সেখানে অক্ষর কেবল গল্পের ভূমিকাটাই লিখেছেন।

২৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা মন্দ হয়নি। শুভমান গিল দারুণ ব্যাটিং করছিলেন, শতকের দিকেই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ৮০ রানে ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এরপর খুব দ্রুতই ফিরে যান শ্রেয়াস আইয়ার ও লোকেশ রাহুল। মুহূর্তেই চাপে পড়ে যায় ভারত।
ঠিক সেই সময় সামনে এগিয়ে আসেন অক্ষর প্যাটেল। ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়েন, চাপটা নিজের কাঁধে তুলে নেন। এরপর সুযোগ বুঝে নিয়মিত বাউন্ডারি বের করে প্রতিপক্ষের হাত থেকে ম্যাচটাও বের করে আনেন। শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে নিরাপদে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি।
বল হাতে প্রতিপক্ষের ইনিংস ভেঙেছেন, আবার ব্যাট হাতে চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ শেষ করে ফিরেছেন। একজন পূর্ণাঙ্গ অলরাউন্ডারের আদর্শ উদাহরণ। বিষয়টা যেন এমন, দল বিপদে পড়লেই, অক্ষরকে ডেকে দাও।











