শুভমান গিলকে এখনও অনেকেই ভবিষ্যতের তারকা বলেই দেখেন। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, তিনি শুধু ভবিষ্যতের নন, বর্তমানেরও অন্যতম সেরা ওয়ানডে ব্যাটার। এমনকি ছাড়িয়ে গেছেন ওয়ানডে ক্রিকেটের রাজা স্বয়ং বিরাট কোহলিকেও। তবে বৈঠকে আলোচনা তাঁকে নিয়ে কমই হয়। তাতে কী, গিল যে নিজের কাজটা করে যাচ্ছেন অবলীলায়। তিনি যে সময়ের সেরাদের কাতারে ইতোমধ্যেই দাঁড়িয়ে আছেন, তার আরেকটা দলিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।
আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলে যদি টিকে থাকা যায়, তার থেকে ভালো কিছু কি আর হয়? হয়তো না। হওয়ার কথাও না। গিল সেই কাজটাই শুরু থেকে করেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ওপরপাশে যা হচ্ছে হোক, নিজের মতাদর্শ যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে গেছেন গিল।
চোখজুড়ানো সব ড্রাইভ, নিখুঁত টাইমিং আর দুর্দান্ত স্ট্রোকপ্লেতে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আধিপত্য দেখানোর কাজটা শতভাগ পালন করেছেন। মাত্র ৭৫ বলেই খেলেন ৮০ রানের পরিণত ইনিংস। যা সাজানো হয়েছে ১১টি চার ও একটি ছক্কায়। তবে সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকা এই ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত থেমে যায় ক্র্যাম্পের কারণে। শারীরিক অস্বস্তিতে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। তবে যাওয়ার আগে ইংল্যান্ডের যতটুকু ক্ষতিসাধন সম্ভব, সেটা করে গেছেন। ক্রিজে দাঁড়িয়ে থেকেছেন ১৪৯ রান পর্যন্ত।

এই ইনিংসটি শুধু ম্যাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও এনে দিয়েছে নতুন উচ্চতা। ৮০ রানের এই ইনিংসের পর শুভমান গিলের ওয়ানডে গড় দাঁড়িয়েছে ৬০.৫৭। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর ব্যাটারদের মধ্যে এটি এখন সর্বোচ্চ।
এর আগেই আরেকটি অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন ভারতের এই ওপেনার। ওয়ানডেতে তিন হাজার রান পূর্ণ করতে তাঁর লেগেছে মাত্র ৬২ ইনিংস। এই তালিকায় তাঁর সামনে আছেন শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি হাশিম আমলা, যিনি ৫৭ ইনিংসে ছুঁয়েছিলেন এই মাইলফলক। আর যাঁর সঙ্গে গিলের তুলনা সবচেয়ে বেশি করা হয়, সেই বিরাট কোহলির লেগেছিল ৭৫ ইনিংস। অর্থাৎ ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে পরিসংখ্যানের বিচারে কোহলিকেও ছাড়িয়ে গেছেন শুভমান গিল।
গিলের এই রথ যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে কে জানে কোহলির কীর্তিতেও ভাগ বসাবেন অদূর ভবিষ্যতে, কিংবা হয়ে উঠবেন তাঁর চেয়েও বড় কিংবদন্তি।











