বাংলাদেশ ক্রিকেটে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই সমালোচনার ভারে অনেক প্রতিভা হারিয়ে গিয়েছে। নাজমুল হোসেন শান্তও একসময় ছিলেন সেই তালিকায়। ট্রল, ব্যর্থতা, দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি—সবকিছুর মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে তাঁকে।
অথচ আজ সেই শান্তই বাংলাদেশের টেস্ট দলের অন্যতম সফল অধিনায়ক এবং দলের মানসিকতার পরিবর্তনের অন্যতম মুখ। প্রতিভা দিয়ে নয়, বরং প্রতিকূলতার মাঝেও মাথা নিচু করে কাজ করে যাওয়া, ব্যর্থতাকে শক্তিতে পরিণত করা এবং অসম্ভবকে সম্ভব ভাবার সাহসেই তিনি আলাদা। তাই অনেকের কাছেই নাজমুল হোসেন শান্ত যেন ‘দেশি মেইড অস্ট্রেলিয়ান মাইন্ডসেট’-এর এক বাস্তব উদাহরণ।
প্রথম আলোর পডকাস্টে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলো নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সমালোচনা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে এক পর্যায়ে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিশ্বকাপে না যাওয়ার। আত্মবিশ্বাসও ছিল তলানিতে। কিন্তু সেই সময় সবচেয়ে বড় সমর্থন হয়ে পাশে দাঁড়ান তার স্ত্রী। নতুন করে ভাবতে বলেন, হাল না ছাড়তে বলেন। পরে সিদ্ধান্ত বদলে বিশ্বকাপে যোগ দেন শান্ত।

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আজ তার বিশ্বাস, মানুষ চাইলে অনেক কিছুই সম্ভব। শুধু একজন নয়, পুরো দল যদি একই বিশ্বাস নিয়ে এগোয়, তাহলে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। বর্তমান বাংলাদেশ টেস্ট দলের মানসিকতার পরিবর্তনেও তিনি সেই দর্শনের ছাপ দেখেন।
শান্ত জানান, খারাপ সময় পার করার জন্য নিজের কাছে একটি নিয়ম তৈরি করেছিলেন—‘ভালো বলছে, আমি কাজ করে যাই। খারাপ বলছে, আমি কাজ করে যাই।’ সহজ ছিল না, কিন্তু এভাবেই সমালোচনা, ট্রল আর ব্যর্থতার সময়গুলো পেরিয়ে এসেছেন।
আজ পরিসংখ্যানও তার পক্ষে কথা বলছে। টেস্ট ক্রিকেটে ৫০ পেরিয়ে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরের হারে ইতিহাসের কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান ও জর্জ হ্যাডলির পরেই রয়েছে তার নাম। তবে এমন তুলনা শুনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না শান্ত। বরং তার লক্ষ্য একটাই—দলের জন্য আরও ভালো করা।

হয়তো এ কারণেই শান্ত আলাদা। তিনি আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে চান না, সুপারস্টার হতে চান না। শুধু বিশ্বাস করেন, মাথা নিচু করে কাজ করে গেলে একসময় ফল আসবেই। আর সেই বিশ্বাসই আজকের বাংলাদেশ দলকেও বদলে দিচ্ছে।











