মাদ্রিদের ক্লাসরুম থেকে বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চ!

লা রোহার ড্রেসিংরুমে যখন এক ঝাঁক কিশোর-তরুণ মুখ, তখন বেঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ৬৫ বছর বয়সী মানুষটাকে দেখলে মনে হয় তিনি যেন এক শিক্ষক, তার ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে আছেন। আসলে তাই তো, লুইস দে লা ফুয়েন্তে সারাজীবনই শিক্ষকতা করে গেছেন, শুধু ক্লাসঘরটা বদলেছে বারবার।

লা রোহার ড্রেসিংরুমে যখন এক ঝাঁক কিশোর-তরুণ মুখ, তখন বেঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ৬৫ বছর বয়সী মানুষটাকে দেখলে মনে হয় তিনি যেন এক শিক্ষক, তার ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে আছেন। আসলে তাই তো, লুইস দে লা ফুয়েন্তে সারাজীবনই শিক্ষকতা করে গেছেন, শুধু ক্লাসঘরটা বদলেছে বারবার।

স্পেনের লা রিওহার ছোট্ট শহর আরোতে জন্ম নেওয়া এই মানুষটা ফুটবলার হিসেবে ছিলেন লেফটব্যাক, বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন এটলেথিক বিলবাওয়ে, সঙ্গে সেভিয়া আর আলাভেসেও খেলেছেন। বিলবাওয়ের হয়ে জিতেছেন লা লিগা আর কোপা দেল রে।

খেলা ছাড়ার পর তিনি নেমে পড়েন কোচিংয়ের সবচেয়ে নিচু ধাপ থেকে, পোর্তুগালেতে, আউরেরার মতো ছোট ক্লাব দিয়ে শুরু। এরপর সেভিয়ার যুব দলে কাজ করেছেন, যেখানে গড়ে তুলেছেন সার্জিও রামোস আর জেসুস নাভাসের মতো খেলোয়াড়দের। ২০১৩ সালে যোগ দেন স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনে, আর সেখান থেকেই শুরু তার আসল গল্প।

অনূর্ধ্ব-১৯ দল দিয়ে ইউরোপ জয়, অনূর্ধ্ব-২১ দল দিয়েও ইউরোপ জয়, টোকিও অলিম্পিকে রুপা, প্রতিটা ধাপেই তিনি তরুণদের তৈরি করেছেন, চিনেছেন, বিশ্বাস করেছেন। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের পর যখন লুইস এনরিকে সরে দাঁড়ালেন, তখন এই একই মানুষকে দায়িত্ব দেওয়া হলো সিনিয়র দলের, নিজের হাতে গড়া প্রজন্মকে নিয়েই এগোনোর।

কয়েক মাসের মধ্যেই নেশনস লিগ জয়, আর ২০২৪ সালে জার্মানিতে ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে রেকর্ড চতুর্থ শিরোপা, সেই দলেই তখন ১৬ বছরের লামিনে ইয়ামাল খেলছেন নির্ভয়ে। লিওনেল স্কালোনিকে পেছনে ফেলে বিশ্ব সেরা কোচের স্বীকৃতিও এসেছে সেবার।

২০২৬ বিশ্বকাপেও একই ছবি, রক্ষণে প্রায় অভেদ্য এক স্পেন, পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটা গোল হজম করে, ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে ২-০ গোলে উড়িয়ে পৌঁছে গেছে ফাইনালে। কিন্তু এই ফাইনালের গল্পে আরেকটা অধ্যায় লুকিয়ে আছে।

২০১৭ সালে মাদ্রিদের লাস রোসাসে যখন লিওনেল স্কালোনি কোচিং লাইসেন্সের ক্লাস করছিলেন, তার শিক্ষকই ছিলেন এই দে লা ফুয়েন্তে। স্কালোনি নিজেই একাধিকবার বলেছেন, সেই ক্লাসরুমে শেখা জিনিস তাকে অনেক দূর নিয়ে গেছে। আজ সেই ছাত্রই দাঁড়িয়ে আছেন ফাইনালে, শিক্ষকের ঠিক উল্টো পাশে।

একটা ছোট শহরের সাবেক লেফটব্যাক থেকে ইউরোপ সেরা কোচ, তারপর নিজের হাতে গড়া ছাত্রকেই বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়া, এই পথটাই বলে দেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তে কেন আজ শুধু একজন কোচ নন। প্রশ্ন একটাই, নিজের হাতে গড়া দর্শন দিয়ে কি তিনি এবার ছাত্রকেও ছাড়িয়ে যাবেন?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link