অস্ট্রেলিয়া কাঁপানো এক হাসান মাহমুদ!

এ যেন অন্য এক হাসান, যাকে আগে এভাবে দেখা যায়নি। কেন্টের কাউন্টি ক্রিকেটে যে পরিণতবোধের পাঠ নিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তারই পূর্ণ প্রকাশ ঘটালেন তিনি— একই টেস্টে বল হাতে ছয় উইকেট, তারপর ব্যাট হাতে ধৈর্যের পরীক্ষা, আবার বল হাতে ভাঙন— বাংলাদেশের সবচেয়ে ভরসার নাম এখন হাসান মাহমুদ।

তৃতীয় দিনের সকালটা হাসান মাহমুদের জন্য শুরু হয়েছিল আউট হয়ে যাওয়া দিয়ে। ৯২ বল মোকাবিলা করে যোগ করলেন মোটে ১৪ রান, জশ হ্যাজেলউডের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে গেলেন প্যাভিলিয়নে।

কিন্তু, বল হাতে নিয়ে সেই একই হাসান দেখালেন সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা— অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামার পরপরই নিজের প্রথম স্পেলে তুলে নিলেন দুটি উইকেট, জেক ওয়েদারাল্ড আর ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে ভেঙে দিলেন প্রতিপক্ষের টপ অর্ডারের কোমর।

একই দিনে দুটো ভিন্ন লড়াই, দুটোতেই সাফল্যের ছাপ— এই হাসানকে বুঝতে হলে ফিরে তাকাতে হবে সিরিজের শুরুতে।

সিরিজ শুরুর আগে যে নামটা ঘুরেফিরে আসছিল আলোচনায়, সেটা নাহিদ রানার অনুপস্থিতি। গতি দিয়ে যিনি ভয় ধরাতে পারতেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের মনে, তার না থাকাটা নিয়ে আক্ষেপ ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। কিন্তু ডারউইনে সেই শূন্যস্থান পূরণ করে দিলেন অন্য একজন— হাসান মাহমুদ, নিজের সবচেয়ে পরিণত রূপ নিয়ে হাজির হয়ে বলে দিলেন, স্কোয়াডে আমি ছিলাম, আমিই তোমাদের রক্ষা করব।

এই টেস্টের প্রথম ইনিংসেই অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পেছনে বড় অবদান ছিল তার, একাই তুলে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। সেই কীর্তির রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে যখন বাংলাদেশের ইনিংস বিপর্যয়ের মুখে, তখন ক্রিজে নেমে মিরাজের পাশে দাঁড়ান হাসান। রান তোলার তাড়া ছিল না তার চোখে, ছিল শুধু টিকে থাকার প্রতিজ্ঞা।

বল ছাড়লেন, রক্ষণ সামলালেন, দিন শেষ করলেন অপরাজিত থেকে। তৃতীয় দিনের সকালেও সেই একাগ্রতা বজায় রাখলেন, শেষমেশ আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত মিরাজকে দিয়ে গেলেন প্রয়োজনীয় সঙ্গ। সংখ্যাটা বলবে সামান্য অবদান, কিন্তু ক্রিকেট জানে, এই ৯২ বলের প্রতিটিই ছিল বাংলাদেশের লিড পোক্ত করার এক-একটি ইট।

ব্যাট হাতে দায়িত্ব শেষ করেই থামলেন না হাসান। বল হাতে নিয়ে যেন আরও ভয়ংকর রূপে ফিরলেন, আর সেই আঘাতেরই মূল কারিগর হয়ে উঠলেন আবার।

এ যেন অন্য এক হাসান, যাকে আগে এভাবে দেখা যায়নি। কেন্টের কাউন্টি ক্রিকেটে যে পরিণতবোধের পাঠ নিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তারই পূর্ণ প্রকাশ ঘটালেন তিনি— একই টেস্টে বল হাতে ছয় উইকেট, তারপর ব্যাট হাতে ধৈর্যের পরীক্ষা, আবার বল হাতে ভাঙন— বাংলাদেশের সবচেয়ে ভরসার নাম এখন হাসান মাহমুদ।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link