পাদ্দিকাল ফিরলেন রাজার বেশে!

ভারতের ক্রিকেটের প্রতিভার ছড়াছড়ি। এটা যেমন আশীর্বাদ, তেমনই দুশ্চিন্তার কারণও। কাকে রেখে কাকে বেছে নেওয়া হবে, সোনা খুঁজতে গিয়ে হীরে হারিয়ে যাবে না তো? এমন সংশয় তো লেগেই থাকে। দেবদূত সেই হীরার মধ্যেই পড়েন।

দুই টেস্ট, তিন ইনিংস ৯০ রান, দেবদূত পাদ্দিকালের শুরুতে বলার মতো কোনো গল্প এলো না। বাদ পড়তে হলো টেস্ট দল থেকে। গল্পটা ২০২৪ সালের। অবশেষে আরও একবার ডাক এলো। ঘরোয়া ক্রিকেটের ধারাবাহিক সাফল্যে সাদা পোশাকের দুনিয়ায় আরও একবার টেনে আনল তাঁকে। প্রত্যাবর্তনের সেই রঙিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরিটাও আদায় করে নিলেন।

ভারতের ক্রিকেটের প্রতিভার ছড়াছড়ি। এটা যেমন আশীর্বাদ, তেমনই দুশ্চিন্তার কারণও। কাকে রেখে কাকে বেছে নেওয়া হবে, সোনা খুঁজতে গিয়ে হীরে হারিয়ে যাবে না তো? এমন সংশয় তো লেগেই থাকে। দেবদূত সেই হীরার মধ্যেই পড়েন। গল টেস্টে কিছু একটা যে তিনি করবেন, তার আভাস মিলেছিল প্রস্তুতি ম্যাচেই। ১৪২ রানের হার না-মানা ইনিংস যিনি খেলেছেন, তিনি যে আসল ম্যাচে কিছুটা করবেনই, তা তো অনুমান করাই যায়। তবে সেঞ্চুরি করবেন ভেবেছিল কি কেউ?

তিন নম্বরের গুরুদায়িত্ব ঘাড়ে যখন ক্রিজে দাঁড়ালেন, চারপাশটা কি তাঁকে চাপ অনুভব করাচ্ছিল? হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। তবে পাদ্দিকালের হাতে একটাই অপশন ছিল, নিজেকে প্রমাণের। কানের কাছে একটা শব্দই বোধহয় বারবার ধাক্কা মেরেছে। করে দেখাও পাদ্দিকাল, কিছু একটা করো।

পাদ্দিকাল করেছেন। ইনিংসটাকে নিজের সক্ষমতার বেষ্টনি দিয়ে বেঁধে নিয়েছেন। স্পিনার, পেসার, সবার ওপরই আপনমনে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। টেম্পারামেন্ট, ক্লাস, সবকিছুরই একটা মেলবন্ধন ঘটেছে তাঁর ইনিংসে। বৃষ্টির পরের বাতাস যতটা স্বস্তির, ঠিক ততটাই স্বস্তিদায়ক পাদ্দিকালের ইনিংস, একেকটা চোখ টেনে ধরা শট।

টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম শতকের দেখা পাওয়া পাদ্দিকাল নিজের ব্যর্থ সত্তাকে একেবারেই মাটিচাপা দিয়ে দিলেন। সব আলো নিজের করে নিলেন। এই রথ নিশ্চয় থামবে না, তিন নম্বরে ভারতের পাকাপাকি ভরসা হয়ে দাঁড়াবেন এই পাদ্দিকালই। অন্তত এই ফিরে আসা, এই সেঞ্চুরি সে বার্তাই দিয়ে যাচ্ছে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link