সাদা পোশাকেও ভারতের দাপট, জাদেজার অনবদ্য সাপোর্ট

বীন্দ্র জাদেজার অলরাউন্ডিং নৈপুন্যে, প্রায় আট সেশন বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া।

দাপটের সাথে এশিয়া কাপ জয়ের পর, তিনদিনেই শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ। রবীন্দ্র জাদেজার অলরাউন্ডিং নৈপুন্যে, প্রায় আট সেশন বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ইনিংস ও ১৪০ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে ক্যারিবিয়ানরা।

ষষ্ঠ শতকের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন জাদেজা আহমেদাবাদ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে। তার অপরাজিত ১০৪ রানের কল্যাণে ৪৪৮ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করে ভারত। এরপর তৃতীয় দিনের সকাল বেলাতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে পাঠান শুভমান গিল। দ্রুত ম্যাচটি শেষ করার একটা তাড়না ছিল সম্ভবত। কিংবা দাপট দেখানোর সুযোগ কেই-বা হাতছাড়া করতে চায়!

ভারতের ৪৪৮ রানের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহে অবশ্য আরও দুই শতকের অবদান কম নয়। একেবারে শান্ত-শীতল ভঙ্গিমায় লোকেশ রাহুলও ছুঁয়ে দেখেছিলেন শতকের মাইলফলক। সেই সাথে তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটার ধ্রুব জুরেলও পেয়ে যান প্রথমবারের মত টেস্ট শতক হাঁকানোর স্বাদ।

তাতে করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৮৬ রানের লিড পায় ভারত। এর আগে আহমেদাবাদ টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৬২ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। সে ইনিংসের বল হাতে ভারতের পক্ষে দাপট দেখিয়েছিলেন মূলত পেসাররা। নতুন বলে মোহাম্মদ সিরাজ ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেন, তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে যান জাসপ্রিত বুমরাহও। এই দুই জনে মিলে প্রথম ইনিংসে শিকার করেছিলেন সাত উইকেট।

কিন্তু ক্যারিবিয়ানদের দ্বিতীয় ইনিংসে দৃশ্যপট পালটে যায়। সম্মুখ সারিতে চলে আসেন ভারতীয় স্পিনাররা, বিশেষ করে রবীন্দ্র জাদেজা। তিনি একাই চার উইকেট তুলে নিয়ে গুড়িয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমস্ত প্রতিরোধ। মাঝে মোহাম্মদ সিরাজ বল হাতে ফেরেন, দেখান নিজের মায়াবি সিমের ব্যবহার। তাছাড়া লেন্থের তারতম্য ঘটিয়ে তিনিও তুলে নেন তিনটি উইকেট।

এরপর ভারতের জয় ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার। মধ্যাহ্ন বিরতির পর গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দাপুটে জয় দিয়েই সিরিজ শুরু করল শুভমান গিলের ভারত। সমতার ইংল্যান্ড সফর শেষে ঘরের মাঠে এই দাপট ভারতকে উজ্জীবিত করবে নিঃসন্দেহে। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে দৃঢ়তার প্রতিমূর্তি হয়ে উঠছেন গৌতম গম্ভীর। এসব কিছুই তো ভারতের প্রেক্ষাপটে ভীষণ ইতিবাচক।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link