আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচ কি পাতানো ছিল? ইরানকে বাদ দেওয়ার কৌশল স্রেফ? এমন প্রশ্ন নিয়ে তোলপাড় ফুটবল দুনিয়া। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কি এই ব্যাপারে কোন জোরালো পদক্ষেপ নেবে? তবে সেটা আর হচ্ছে না, ফিফা সাফ জানিয়ে দিয়েছে তদন্তের পরিকল্পনা তাদের নেই। অভিযোগ থাকলেও পাওয়া যায়নি উপযুক্ত প্রমাণ।
ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিটে। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৯৩ মিনিটে আলজেরিয়াকে এগিয়ে দেন রিয়াদ মাহরেজ। তখন মনে হচ্ছিল, এই গোলেই হয়তো অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে যাবে। কিন্তু নাটক তখনও বাকি। ইনজুরি টাইমের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ৯৬ মিনিটে সমতা ফেরায় অস্ট্রিয়া।
শেষ গোলটি আসার আগে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে বলের দখল ধরে রাখে দুই দল। সেই সময়ে হয় মোট ১১০টি টানা পাস। এই দীর্ঘ পাসিং সিকোয়েন্স দেখেই অনেকের সন্দেহ জন্মায়, দুই দল যেন অলিখিত সমঝোতায় খেলছিল। কারণ ড্রয়ের এই ফলেই অস্ট্রিয়া দ্বিতীয় এবং আলজেরিয়া তৃতীয় হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে।

ম্যাচ চলাকালীন উত্তেজনাও কম ছিল না। অস্ট্রিয়ার ফরোয়ার্ড মার্কো আরনাউটোভিচকে আলজেরিয়ার বেঞ্চের দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। হাত নেড়ে প্রতিবাদও করেন তিনি। ফলে মাঠের পরিবেশ দেখে তখন অনেকেরই মনে হয়েছিল, ম্যাচের ভেতরে হয়তো অন্য কোনো গল্প লুকিয়ে আছে।
তবে ম্যাচ শেষে অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক সব অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তার দাবি, খেলোয়াড়রা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের জন্যই লড়াই করেছে। কোনো ধরনের সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।
অন্যদিকে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেন আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ। তিনি স্বীকার করেন, ম্যাচের শেষ দিকের পরিস্থিতি কিছুটা “অস্বস্তিকর” ছিল। তবে সেটিকে ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে মেলাতে নারাজ এই তারকা।

ফিফাও মাহরেজ কিংবা রাংনিকের বক্তব্যের সঙ্গে একমত। সংস্থাটির অবস্থান স্পষ্ট, এই ম্যাচে অনিয়ম বা ম্যাচ পাতানোর কোনো ইঙ্গিত তারা দেখেনি। ফলে আনুষ্ঠানিক তদন্তেরও প্রয়োজন নেই। পরিশেষে যে ভাগ্যটা কোনভাবেই সহায় হয়নি ইরানের। এই সত্য এখন মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় কি?










