ওয়ানডেতে ফেরার স্বপ্নে বিভোর পান্ত!

মানসিক শক্তি ও কঠোর তপস্যার জোরে পান্ত কি আবারও ভারতের ওয়ানডে একাদশে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে পারবেন? সময়ই দেবে সেই জবাব!

২০২২ সালে কার দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে ২২ গজে ফিরেছিলেন ঋষাভ পান্ত। কিন্তু, পারফরম্যান্সের উত্থান-পতনে ভারতের নীল জার্সিতে আর থিতু হওয়া হয়নি তাঁর। অবশ্য, সাদা পোশাকে ঢের আলো ছড়াচ্ছেন তিনি। তবে, ২০২৪ সালের পর থেকে দীর্ঘ দুই বছর ওয়ানডে দলের বাইরে থাকা এই বাঁহাতি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার এখনও বিভোর ম্যান ইন ব্লুজদের একদিনের ক্রিকেটে ফেরার স্বপ্নে!

সম্প্রতি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ওয়ানডে দল থেকে আবারও বাদ পড়েছেন পান্ত। বর্তমানে প্রথম শ্রেণির ইরানি কাপে রেস্ট অব দ্য ভারত দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব কাঁধে থাকলেও, পান্তের মূল লক্ষ্য এখন ভারতের ওয়ানডে দলে প্রত্যাবর্তন। তবে ৫০ ওভারের ফরম্যাটে তাঁর ফেরার পথটা একেবারেই সহজ নয়।

পান্তের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরই ওয়ানডে দলে লোকেশ রাহুল নিজের স্থান মজবুত করেছেন। সঙ্গে, ঈশান কিষাণ ও ধ্রুব জুরেলও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করে নিয়েছেন।

দুর্ঘটনার কারণে বছরখানেক ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন পান্ত। মিস করেন ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপও। এ সময়ের ভেতরেই মূলত উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে কেএল রাহুল ওয়ানডেতে ভারতের প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠেন। ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো ঈশান কিষাণও রাহুলের কাছে তেমন পাত্তা পাননি তখন। তবে, ঈশান নিজেকে আরও উন্নত করেছেন। জুরেলও তাঁর ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়ে চলতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে স্কোয়াডে ঠাঁই পেয়েছেন। এই তিন ক্রিকেটারের কারণেই পান্তের ওয়ানডে দলে ফেরার আশাটা এখনও ম্লান হয়ে আছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের চাপা অনুভূতির কথা প্রকাশ করেছেন পান্ত। পান্ত বলেন, “এমন ঘটনার ক্ষেত্রে খারাপ লাগাটা খুবই স্বাভাবিক। তবে একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের মানসিকতা সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ দল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা ঘটলে, দলে ফেরার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনাকে প্রতিদিন এভাবে মানিয়ে নিতে হবে।”

দলে ঠাঁই না পাওয়াও খেলার অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মানুষ আমাকে বলবে আমার সাথেই এমন হচ্ছে বা হয়েছে। কিন্তু একজন খেলোয়াড়ের কাছে এটাও খেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে, একইসঙ্গে আপনি এটাও জানেন যে আপনি কীভাবে কঠোর তপস্যা করছেন এবং আপনার লক্ষ্য অর্জনে আপনি কতটা তৎপর।”

ভারতের হয়ে ৩১ ওয়ানডেতে ৮৭১ রান করেছেন ঋষাভ পান্ত। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৫ রানের ইনিংস ফরম্যাটটিতে তাঁর ক্যারিয়ার সেরা পারফর্ম্যান্স। আছে পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরিও। তবে, সংখ্যার বিচারে পান্তের আসল প্রতিভা বিচার করা কঠিনই বটে। নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ সবসময় না মেলায় আক্ষেপ থেকে গেছে তাঁর। তবু, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষা দিচ্ছেন এই তারকা।

পান্তের ভাষায়, “আমার মনে হয়, আমি আমার সেরাটা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ পাইনি। আমাকে (দলে জায়গা করে নেওয়ার) কাজটা করতেই হবে, এবং সেটা শুধু আমার জন্যই। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বদলাচ্ছে। তাই কখনো কখনো আপনার সঠিক সময়টা আসার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।”

মানসিক শক্তি ও কঠোর তপস্যার জোরে পান্ত কি আবারও ভারতের ওয়ানডে একাদশে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে পারবেন? সময়ই দেবে সেই জবাব!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link