মিচেল লি বেকার একাই যেন গোলের ঝড় তুলে লিখলেন বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম লজ্জার দিন। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলে হারে বাংলাদেশ, যার মধ্যে হামজা চৌধুরীদের জালে পাঁচবার বল পাঠিয়েছেন এই অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত ইন্দোনেশিয়ান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই চার গোল, এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি, বাংলাদেশের প্রতিরোধকে একাই ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন বেকার।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে অবশ্য গল্পটা এমন ছিল না। বরং বেকারকে ঘিরে ছিল অপেক্ষা। ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম দুই ম্যাচে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করতে পারেননি তিনি। অথচ এর আগের আসিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেকেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন হ্যাটট্রিক, এরপর তিমোর-লেস্তের বিপক্ষেও পেয়েছিলেন গোল। মাত্র চার ম্যাচেই তাঁর গোল হয়ে গিয়েছিল চারটি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে যেন সেই পুরোনো বেকারকেই আবার দেখা গেল। শুরুটা মাত্র ১১ মিনিটে। ওলে রোমেনির কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে বাংলাদেশের জালে প্রথমবার বল পাঠান বেকার। তখনও কেউ হয়তো ভাবেনি, এই গোলটাই হতে যাচ্ছে এক মহাদুঃস্বপ্নের শুরু। ২০ মিনিটের মধ্যেই বেকারের জোড়া গোল।

একদিকে ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণ একের পর এক ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের রক্ষণে তৈরি হচ্ছিল একের পর এক ফাঁক। বেকার সেই ফাঁকগুলোই খুঁজে নিচ্ছিলেন অবিশ্বাস্য দক্ষতায়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই তাঁর নামের পাশে চার গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি কিছুটা কমলেও বেকার থামেননি। নিজের পঞ্চম গোলটি করেন একেবারে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগে। অর্থাৎ বাংলাদেশের জালে ইন্দোনেশিয়া যে ৯ গোল দিয়েছে, তার ৫টিই বেকারের পা থেকে।
মজার ব্যাপার, বাংলাদেশের বিপক্ষে নামার আগেই বেকারকে ঘিরে প্রশ্ন ছিল, ‘গোল কোথায়?’ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল না পাওয়ায় তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল ইন্দোনেশিয়া। উত্তরটা তিনি দিলেন মাঠেই। একটা-দুটো নয়, একেবারে পাঁচখানা গোল করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখলেন।











