সাইফউদ্দিন দলকে ফেলে দিয়েছেন দুশ্চিন্তায়

এখন ভিন্ন পরিকল্পনার ছক কষা ভীষণ প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য। নতুবা সূর্যের হাসি হওয়ার আগেই সাইফউদ্দিনের আকাশ আবার ছেয়ে যাবে ঘন কালো মেঘে।

নিজ হাতে একটা দোলাচলের সৃষ্টি করেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তাকে নিয়ে রীতিমত দোটানায় পড়ে যেতে পারে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার বোলিং সৃষ্টি করেছে যে সংশয়।

সিরিজ আগেভাগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। সিরিজের শেহশ ম্যাচটায় হোয়াইট ওয়াশের সম্ভাবনাকে বাস্তব করতেই নেমেছিল জাকের আলী অনিকের দল। আগের দিনও বেশ ভাল বোলিং করেছিলেন তিনি। চার ওভারে ২২ রান খরচা করেছিলেন তিনি। তবে ছিলেন উইকেট শূন্য।

কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে তার উইকেট ভাগ্য খুলে গেল। তিনখানা উইকেট বাগিয়ে নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ভাগ্য যে সাইফউদ্দিনের পক্ষে এদিন কথা বলতে শুরু করেছিল, সে প্রমাণ পাওয়া গেছে তার পাওয়া প্রথম উইকেটেই। একেবারে জুসি ফুলটস বলে বোল্ড হন ওয়াফিউল্লাহ তারাখিল। উদযাপনের চাইতেও যেন সাইফউদ্দিনের কাছে এটা মনে হচ্ছিল হাস্যকর বিষয়।

প্রচুর ইয়োর্কার বল করার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আর সেই প্রচেষ্টায় প্রয়াশই ফুলটস হয়ে যায়। এমন বলে বাউন্ডারি হজম করাই স্বাভাবিক, উইকেট পাওয়া বিস্ময়কর। পরের দু’টো উইকেটে অবশ্য নিজের বুদ্ধির ব্যবহার করেই আদায় করেছেন।

আউট সাইড অফে বল করে দুইটি উইকেট বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। সেদিকুল্লাহ অটল ক্যাচ দিয়েছেন ডিপ পয়েন্টে, আর ডারউইশ রাসুলি ক্যাচ তুলে দিয়েছেন শর্ট থার্ডম্যানে। রাসুলির উইকেট প্রাপ্তির বলটি আবার ছিল স্লোয়ার। অতএব বৈচিত্র্য তার বোলিংয়ে রয়েছে বটে।

একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের সন্ধান বাংলাদেশের বহুদিনের। সেই সন্ধানের সমাধান হওয়ার কথা ছিল এই সাইফউদ্দিনের। কিন্তু ইনজুরি ও অফফর্মের গ্যাড়াকলে সেই সম্ভাবনা ছেয়ে গিয়েছিল ঘোর কালো অন্ধকারে। সেই মেঘ সরাতে হবে খোদ সাইফউদ্দিনকেই।

তবে টিম ম্যানেজমেন্টের দোটানা হচ্ছে, একাদশে সাইফের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। এশিয়া কাপেই মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে একাদশে খুব একটা সুযোগ দেওয়া হয়নি। কেননা তিনি মূল পরিকল্পনার অংশ ছিলেন না। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তাকে বাজিয়ে দেখা হচ্ছে, তিনি পারফরম করতে শুরু করেছেন।

এখন ভিন্ন পরিকল্পনার ছক কষা ভীষণ প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য। নতুবা সূর্যের হাসি হওয়ার আগেই সাইফউদ্দিনের আকাশ আবার ছেয়ে যাবে ঘন কালো মেঘে।

Share via
Copy link