বাবা বাংলাদেশি, এক ছেলে জাপানের, আরেকজন অস্ট্রেলিয়ার

২৪ বছর বয়সী ইশামের জন্ম জাপানে। বাবা তখন সেখানকার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। ক্রিকেটে তাঁর পথচলা শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায়।

ক্রিকেট ভালোবাসেন মাসুদ রহমান। এটুকু বললে বোঝা যায় না, আসলে তিনি ক্রিকেট গুলে খান। শিক্ষকতা কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ত গবেষণার পাশাপাশি, ক্রিকেটই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান।

পুরোদস্তর বাংলাদেশি এই মাসুদ সাহেবের দুই ছেলে। দুই ছেলেকে ক্রিকেটার বানিয়েছেন। তবে, হয়তো তিনি কল্পনাও করেননি, তার দুই ছেলে দুই ভিন্ন দেশের হয়ে ক্রিকেটের পাতায় নাম লিখবে — একজন জাপানের, আরেকজন অস্ট্রেলিয়ার।

মাসুদ রহমান, ইশাম-রাকিনের বাবা

বাবা-মায়ের বাংলাদেশি শিকড়,  ওঠা অস্ট্রেলিয়ায় — এমন বহুমাত্রিক যাত্রায় তৈরি হয়েছে দুই ভাইয়ের ক্রিকেট স্বপ্ন। বড় ছেলে ইশাম রহমান ইতোমধ্যে জাপান জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন, আর ছোট ভাই রাকিন রহমানের নাম উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব–১৭ দলে।

২৪ বছর বয়সী ইশামের জন্ম জাপানে। বাবা তখন সেখানকার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। ক্রিকেটে তাঁর পথচলা শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায়। সেখানেই স্থানীয় ক্রিকেটে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে জায়গা করে নেন অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটোরি দলে, খেলেন ২০২৪ সালের টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

ইশাম রহমান

সেই সিরিজে ছয় ইনিংসে নেন ১৩ উইকেট, এর মধ্যে এক ম্যাচে ছিল পাঁচ উইকেট। বাংলাদেশ এইচপির বিপক্ষে নিয়েছিলেন খোদ আফিফ হোসেনের উইকেট।

সম্প্রতি এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিশ্বকাপর বাছাইপর্বের প্রস্তুতি ম্যাচে রস টেলরের সামোয়ার বিপক্ষে ৩১ বলে অপরাজিত ৫০ রান করে জাপানকে জেতান এই তরুণ অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে ম্যাচ শেষ করা ছাড়াও, তিনি একজন কার্যকর মিডিয়াম পেস বোলার, যিনি বল হাতে জাপানের বোলিংয়ে বৈচিত্র আনতে পারবেন।

২০২৪ সালে টপ এন্ড সিরিজ চলাকালে ইশাম রহমান

ছোট ভাই রাকিন রহমান এখনো বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলেন। স্বপ্ন দেখেন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর। অজিদের সেরা কিশোর প্রতিভাদের একজন এই বাংলাদেশি। কোচদের মতে, রাকিনের টেকনিক ও মানসিক দৃঢ়তা তাকে ভবিষ্যতের ক্রিকেটার হিসেবে আলাদা করে তুলছে।

এই সব কিছুই সম্ভব হয়েছে বাবা মাসুদ রহমানের জন্য। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ থেকে জাপান হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান মাসুদ রহমান। নতুন দেশে প্রথমদিকে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। স্থানীয় একটি ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন, আর সেখানেই শুরু হয় তার নতুন জীবনের গল্প।

 

রাকিন রহমান, অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ?

সেই অভিজ্ঞতাই তাকে উদ্বুদ্ধ করে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করতে ক্যানবেরা ক্রিকেট একাডেমি। অভিবাসী বিশেষ করে উপমহাদেশ থেকে আসা তরুণদের অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করে এই অ্যাকাডেমি। বর্তমানে একাডেমিটিতে প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

মাসুদ রহমান নিজেও এখনো সক্রিয়ভাবে প্রশিক্ষণ ও আম্পায়ারিং করেন, নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন দুই সন্তানকে। মাসুদ রহমানের দুই ছেলে আজ তার স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিচ্ছে ভিন্ন দুই মঞ্চে। একজন বাংলাদেশি অভিবাসী বাবা ও তার দুই ছেলের ক্রিকেট যাত্রায় বিশ্বজুড়ে জড়িয়ে থাকছে বাংলাদেশের নাম।

ক্যানবেরা ক্রিকেট অ্যাকাডেমির অনুশীলনে মাসুদ রহমান

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link