অবিশ্বাস্য আইয়ারের ক্যাচ!

অবিশ্বাস্য, এই এক শব্দই যথেষ্ট শ্রেয়াস আইয়ারের জন্য। ওয়াংখেড়ের আলো ঝলমলে সন্ধ্যায় তৈরি করলেন চোখ কপালে ওঠার মতো মুহূর্ত—যেটা ম্যাচের চেয়ে বেশি মনে থাকবে সেই এক সেকেন্ডের জন্য।

অবিশ্বাস্য, এই এক শব্দই যথেষ্ট শ্রেয়াস আইয়ারের জন্য। ওয়াংখেড়ের আলো ঝলমলে সন্ধ্যায় তৈরি করলেন চোখ কপালে ওঠার মতো মুহূর্ত—যেটা ম্যাচের চেয়ে বেশি মনে থাকবে সেই এক সেকেন্ডের জন্য। ১৭.৩ ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার শট যখন বাউন্ডারির দিকে ছুটে যাচ্ছিল, তখনই আইয়ার বনে গেলেন বাজপাখি, নিখুঁত ক্যাচে হার্দিকের গল্পের সমাপ্তি টেনে দিলেন।

হার্দিকের মারা শট যখন নিশ্চিত ছয়ের গন্তব্যের দিকে ছুটে যাচ্ছিল ঠিক সেসময় বাউন্ডারির একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্রেয়াস আইয়ার। বলটি দ্রুত গতিতে সীমানার দিকে আসতেই শিকারী চোখ দিয়ে মেপে নিলেন নিজের শিকারের অবস্থান।  এক মুহূর্ত দেরি না করে পেছনের দিকে নিজের শরীরটাকে ছুড়ে দিলেন।  যেন বাতাসের সাথে মিশিয়ে নিলেন নিজেকে।

পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় থেকেও দুই হাতে বলটি নিখুঁতভাবে তালুবন্দি করেন। মাটির কোনো ভর না পেয়ে, আকাশে ঝুলন্ত অবস্থাতেই তিনি নিয়ন্ত্রণ হারাননি একটুও। আরও অবিশ্বাস্য ছিল তার পরের কাজ। সেই অসম্ভব ভারসাম্যের মধ্যেই তিনি দ্রুত বুঝে যান বল ছেড়ে দিতে হবে হাত থেকে, নইলে বাঁচানো যাবে না ছক্কা। সঙ্গে সঙ্গে বলটি ভেতরের দিকে ছুড়ে দেন জাভিয়ের বার্টলেটের দিকে। বার্টলেট কোনো ভুল না করে ক্যাচ সম্পূর্ণ করেন, আর সাজঘরে ফিরে যান হার্দিক পান্ডিয়া।

আইয়ারের এই ক্যাচের ভেতরে ছিল অ্যাথলেটিক্সের সীমা ছাপানো শরীরী নিয়ন্ত্রণ, মুহূর্তের সিদ্ধান্ত আর নিখুঁত সমন্বয়। ওয়াংখেড়ের স্তব্ধ হয়ে দেখেছিল সেই দৃশ্য—যেটা শুধু আউট নয়, ক্রিকেটের এক নিখুঁত শিল্পকর্ম।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link