ঘরের মাঠ আজতেকায় অপ্রতিরোধ্য মেক্সিকো যখন একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে দিচ্ছিল, তখন শেষ আশ্রয়ের হয়ে উঠলেন জর্ডান পিকফোর্ড। শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ডে ৩-২ থাকলেও জয় কেবল গোলদাতাদের নয়, এটি ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা এক গোলরক্ষকের গল্পও।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে থমাস টুখেলের দল। তবে ম্যাচের গল্প শুধু পাঁচ গোলের নয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জ্যারেল কোয়ানসাহ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশজনের ইংল্যান্ডকে দীর্ঘ সময় প্রবল চাপ সামলাতে হয়। এর মধ্যেই হ্যারি কেইনের পেনাল্টিতে ব্যবধান ৩-১ হলেও রাউল হিমেনেসের স্পট-কিক মেক্সিকোকে ফিরিয়ে আনে লড়াইয়ে।

এরপর শুরু হয় পিকফোর্ডের অগ্নিপরীক্ষা। প্রথমার্ধেই রাউল হিমেনেসের দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন তিনি। শেষ মুহূর্তে বক্সে মেক্সিকোর একের পর এক উঁচু বল, ক্রস আর চাপও ঠান্ডা মাথায় সামলে ইংল্যান্ডকে নিরাপদে পৌঁছে দেন শেষ আটে। জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোল ও কেইনের গোলের আড়ালেও তাই ম্যাচসেরার আলো ছুঁয়ে যায় ইংল্যান্ডের এক নম্বর গোলরক্ষককে।
ম্যাচটিতে আরেকটি ইতিহাসও গড়েছেন পিকফোর্ড। ইংল্যান্ডের জার্সিতে বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম ম্যাচ খেলে তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন দেশটির কিংবদন্তি পিটার শিলটনের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে অভিষেকের পর ২০২২ কাতার এবং এখন ২০২৬ টানা তিনটি বিশ্বকাপেই দলের প্রথম পছন্দ তিনি। একই সঙ্গে এটি ছিল ইংল্যান্ডের হয়ে তার টানা ২৯তম বড় টুর্নামেন্টের ম্যাচ।

এদিকে, ক্লাব ফুটবলেও পিকফোর্ডের পরিচয় সমান উজ্জ্বল। সান্ডারল্যান্ডে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করে তিনি এভারটনে যোগ দেন ২০১৭ সালে। দ্রুতই প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষকে পরিণত হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে দেশের জার্সিতেও নিজের অবস্থান অটুট রাখেন ৩২ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।
এবার সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন মিলল বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে। কোয়ার্টারে নরওয়ের বিপক্ষে আর্লিং হাল্যান্ডদের সামনে আবারও থ্রি লায়ন্সদের সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারেন কি-না তিনি, সেটিই দেখার অপেক্ষা।










