বিশ্বকাপে রাউল হিমিনেজের প্রথম গোল। তাঁর নামের ঢেউ তখন আছড়ে পড়ছে আজতেকার গ্যালারির প্রতিটি কোণে। হিমনেজের চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে আনন্দ অশ্রু। এই গোলটার জন্যই তো এতদিনের অপেক্ষা। হাসপাতাল বেড, খ্যাতির চূড়া সবকিছু ছাপিয়ে এই গোলটাই যেন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া। মেক্সিকোর দ্য লাভড বয় যে শেষ পর্যন্ত অধরা স্বপ্নটা ছুঁতে পেরেছেন।
অপার এক সম্ভাবনা নিয়ে এসেছিলেন ফুটবল ময়দানে। সবাই ধরেই নিয়েছিল আরও এক নম্বর নাইনের আবির্ভাব ঘটেছে ফুটবল তল্লাটে, হবেন বিশ্বসেরাদের কেউ। তবে জীবন কি আর এক সরলরেখায় চলে?
ইনজুরি, ওটাই সর্বনাশের মূল। যতবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছেন হিমিনেজ ততবারই ওই সর্বনাশা ইনজুরি তাঁকে পেছন থেকে টেনে ধরেছে।

২০২০ সাল। সবুজ মাঠ নয়, তখন রাউল হিমিনেজের জীবন থেমে গিয়েছিল হাসপাতালের সাদা দেয়ালের ভেতরেই। মাথার খুলি ফেটে যাওয়া, ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি। ফুটবলের ভবিষ্যৎ তখন অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল। ডাক্তাররা শঙ্কা প্রকাশ করছিলেন, অনেকেই মনে করেছিল, এটাই হয়তো শেষ অধ্যায়। ফুটবল আঙিনায় তাঁকে দেখা যাবে আর কখনোই।
তবে যার ইচ্ছেশক্তি আর স্বপ্নের পরিধি বিস্তর তাঁকে দমিয়ে রাখার সাধ্য আছে কার? হিমিনেজ ধীরে ধীরে লড়াই শুরু করেন নিজের শরীরের সঙ্গে, নিজের ভাগ্যের সঙ্গে। আর সেই অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র নয় মাস পর তিনি ফিরে আসেন সবুজ গালিচায়। ফুটবল বিশ্ব তখন স্তব্ধ এটা কি বাস্তব, নাকি কোনো সিনেমার গল্প!
মেক্সিকোর জার্সিতে ৪৬টি গোল। সক্রিয় খেলোয়াড়দের মধ্যে তার ধারকাছে কেউ নেই। শুধু সামনে দাঁড়িয়ে কিংবদন্তি চিচিরিতো, যার গোলসংখ্যা ৫২। তবে এতকিছুর ভিড়ে একটি জিনিসই ছিল না হিমিনেজের কাছে, ছিল স্বপ্নের বিশ্বকাপ মঞ্চে একখানা স্বপ্নের গোল।

সেটাই পেয়ে গেলেন অবশেষে, হেড দিয়ে যখন বলটাকে দক্ষিণ আফ্রিকার জালে পাঠালেন তাতেই পূরণ হলো সেই স্বপ্নটা, যা এতদিন বুকে পুষে রেখেছিলেন।
হওয়ার কথা সেরাদের কেউ, সেটা হয়নি। ইনজুরি সেটা হতে দেয়নি। গড়পড়তা একজন হয়েই থেকেছেন মেক্সিকোর ‘দ্য লাভড বয়’। আজও প্রিমিয়ার লিগের ওলিগলিতে ঘুরে বেড়ান, অভিজ্ঞতা আর না পাওয়ার ব্যথা নিয়ে সবুজ গালিচায় ছুটে বেড়ান। তবুও তো শেষবেলায় একটা স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ওই যে কথায় আছে না, জীবন যা কেড়ে নেয় সময় এলে তাঁর দ্বিগুন ফিরিয়েও দেয়। যার সাক্ষী রাউল হিমিনেজ।
Share via:










