“তারকার চেয়ে দলই বড়”

স্পেনের এই জয় মনে করিয়ে দিল, ফুটবল শেষ পর্যন্ত একটি সমষ্টিগত খেলা। যেখানে ব্যক্তিগত প্রতিভার চেয়ে দল সবসময়ই বড়। একতাই সফলতার জিয়নকাঠি!

২০২৬ বিশ্বকাপে বসেছিল মহাতারকাদের এক বিশাল মেলা। একদিকে লিওনেল মেসির জাদুকরী ছন্দ, অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলবন্যা, সঙ্গে আর্লিং হাল্যান্ডের বিধ্বংসী স্ট্রাইক কিংবা হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামদের দৌরাত্ম্য। সবাই যখন মেতেছিল ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে, স্পেন তখন মাঠের ভেতরে লিখছিল এক ভিন্ন সত্য: “তারকার চেয়ে দলই বড়”।

লা রোহা দের শুরুটা ছিল বড্ড ফিকে। কেপ ভার্দের সাথে ড্রর পর সবাই তাদের বাতিলের খাতায় ফেলেছিল। তবে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তখন ভেতরে ভেতরে বুনছিলেন এক নিঁখুত জাল। তার স্কোয়াডে এমন অনেক নাম ছিল যারা ক্লাবে অনিয়মিত কিংবা চোট কাটিয়ে ফেরা। তা সত্ত্বেও ফুয়েন্তে সেই বিচ্ছিন্ন শক্তিগুলোকেই পরিণত করলেন এক ইস্পাতকঠিন একতায়।

মাঠে স্পেনের কৌশল হয়ে উঠল অদম্য। পেদ্রো পোরো আর মার্ক কুকুরেয়া রক্ষণে প্রাচীর গড়লেন। রদ্রি আর ফাবিয়ান রুইজ মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিলেন। দুই প্রান্তে লামিন ইয়ামাল আর নিকো উইলিয়ামস গতির ঝড় তুললেন।

ফলাফল? সেমিফাইনালে ফ্রান্স আর ফাইনালে আর্জেন্টিনার মহাতারকারা থেমে গেলেন স্প্যানিশ ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাসে। এমবাপ্পে কিংবা মেসির বল পাওয়ার রাস্তাগুলো বন্ধ হলো। মেসি তো পুরো ফাইনালে স্পেনের বক্সে একবারও বলই পেলেন না।

ইংল্যান্ড, নরওয়ে, ফ্রান্স বা আর্জেন্টিনার মতো স্পেন একক কোনো জাদুকরের দিকে তাকিয়ে থাকেনি। তারা প্রতিপক্ষের পুরো সিস্টেমকেই অকেজো করায় মন দিয়েছে। পাসিং অ্যাকিউরেসি, পরিকল্পিত আক্রমণ আর পরিণত রক্ষণের কৌশলের পেছনে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসকেই বড় করে দেখেছে। ঠিক এ কারণেই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটটা এসেছে লা রোহা দের মাথায়।

স্পেনের এই জয় মনে করিয়ে দিল, ফুটবল শেষ পর্যন্ত একটি সমষ্টিগত খেলা। যেখানে ব্যক্তিগত প্রতিভার চেয়ে দল সবসময়ই বড়। একতাই সফলতার জিয়নকাঠি!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link