মিরাজ অধ্যায় পেরিয়ে শান্তর প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে অধিনায়কত্ব। বিসিবিতে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তামিম ইকবালের দীর্ঘ বৈঠকের পর প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি ওয়ানডে নেতৃত্ব নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসছে? যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বিসিবি, তবে আলোচনার আগুন ছড়িয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের অধিনায়কত্ব ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশ্ন থেকে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে অধিনায়কত্ব। বিসিবিতে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তামিম ইকবালের দীর্ঘ বৈঠকের পর প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি ওয়ানডে নেতৃত্ব নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসছে? যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বিসিবি, তবে আলোচনার আগুন ছড়িয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের অধিনায়কত্ব ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশ্ন থেকে।

শান্ত বর্তমানে শুধু টেস্ট দলের অধিনায়ক। ওয়ানডেতে তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মিরাজকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এই অলরাউন্ডারের নেতৃত্ব নিয়ে।

জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। সেই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে মাত্র ৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। প্রতিপক্ষ পুরোপুরি চাপে থাকার পরও বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি। মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হারতে হয়। ওই ম্যাচের পর মিরাজের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—চাপের মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে দ্রুত শেষ করার মতো আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা কতটা কার্যকর ছিল?

সমালোচকদের মতে, অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো যখন প্রতিপক্ষ দুর্বল অবস্থায় থাকে, তখন সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো। সঠিক সময়ে ফিল্ডিং সাজানো, বোলারদের ধারাবাহিকভাবে ব্যবহার করা এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জায়গায় আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষ করে পেসারদের স্পেল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি সময়ে পেসাররা উইকেট এনে দিয়ে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলেছিলেন, কিন্তু তাদের ছন্দ ধরে রাখার বদলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজে বোলিংয়ে আসার সিদ্ধান্তও অনেকের চোখে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সমালোচকদের মতে, কখন আক্রমণ ধরে রাখতে হবে আর কখন নিজের ভূমিকা কমিয়ে দলের শক্তির জায়গা কাজে লাগাতে হবে—এই ভারসাম্যটা আরও ভালোভাবে করতে হবে।

তবে মিরাজের নেতৃত্বের ইতিবাচক দিকও আছে। তার ক্রিকেট বোঝার ক্ষমতা, মাঠের পরিস্থিতি পড়ার দক্ষতা এবং অলরাউন্ডার হিসেবে অবদান তাকে আলাদা করে। কিন্তু অধিনায়কত্বের পাশাপাশি নিজের ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়েও তাকে লড়তে হচ্ছে। মিরাজ নিজেও স্বীকার করেছেন, অধিনায়ক হিসেবে ভালো করলে যেমন প্রশংসা আসে, তেমনি ব্যর্থ হলে সমালোচনাও নিতে হয়।

অন্যদিকে শান্তর পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি তার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা। তিনি আগে ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বর্তমানে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই ২০২৭ বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিসিবি নেতৃত্বে পরিবর্তনের কথা ভাবছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

মিরাজ থাকবেন, নাকি শান্ত আবার ওয়ানডের দায়িত্বে ফিরবেন—সিদ্ধান্ত যাই হোক, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে নেতৃত্বে স্থিরতা এবং মাঠের কৌশলগত সিদ্ধান্তের উন্নতি।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link