ফুটবল মাঠে জিনেদিন জিদান, আন্দ্রে পিরলো কিংবা ডিয়েগো ফোরলানের জাদুকরী মুহূর্তগুলো এখনও দর্শকদের দোলা দেয়। যখনই বল তাদের পায়ের ছোঁয়া পেত, তখনই যেন নিমেষেই বদলে যেত খেলার শৈলী। সেই জিদান, পিরলো আর ফোরলান আবার ফিরছেন জাতীয় দলে। তবে এবার জার্সি গায়ে নয়, নিজ নিজ দেশের ডাগআউটে দেখা যাবে এই তিন ফুটবলের নক্ষত্রকে।
শুরুটা জিনেদিন জিদানকে দিয়ে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের মহানায়ক দীর্ঘ ১৫ বছর পর দিদিয়ের দেশমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। রিয়াল মাদ্রিদে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর তিনি হয়তো এতদিন প্রতীক্ষায় ছিলেন কেবল এই পদটির জন্যই। এবার এল সেই সুযোগ।

আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় ফুটবল দর্শনে বিশ্বাসী জিদান পরিকল্পনা করছেন এক বিশাল টেকনিক্যাল স্টাফ দল নিয়োগের, যেখানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নারীদেরও থাকবে বিশেষ ভূমিকা। দলের রক্ষণ, মধ্যমাঠ আর আক্রমণ সবকিছুতেই ভারসাম্য আনতে চান এই ফরাসী কিংবদন্তি।
একইভাবে, ডাগআউটে ফিরছেন ইতালির ‘ম্যায়েস্ত্রো’ আন্দ্রে পিরলো। ২০০৬ সালে আজ্জুরিদের বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেওয়া এই শৈল্পিক মিডফিল্ডার এবার দলটির নতুন গুরুর দায়িত্ব সামলাবেন। টানা তিনবার বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারা ইতালির হারানো গৌরব ফেরাতে চার বছরের চুক্তিতে আসছেন তিনি।
কোচিং ক্যারিয়ারে জুভেন্টাসে ট্রফি জয় আর দুবাইয়ের মাঠের অভিজ্ঞতা নিয়ে পিরলো চাইবেন আজ্জুরিদের ফুটবল দর্শনে সেই চিরচেনা আভিজাত্য আর জয়ের নেশা ফিরিয়ে আনতে। চারবারের বিশ্বজয়ীদের আবারও বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়াই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

ব্যর্থতার সমুদ্রে থাকা উরুগুয়েও সম্প্রতি কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে তাদের ঘরের ছেলেকে। দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ডাগআউটে ফিরছেন ২০১০ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জয়ী দিয়েগো ফোরলান। মার্সেলো বিয়েলসার বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এই গ্রেট স্ট্রাইকার।
কোচিং ক্যারিয়ারে অভিজ্ঞতা কিছুটা সীমিত হলেও ফোরলানের টেকনিক্যাল জ্ঞান আর লড়াকু মানসিকতাই উরুগুয়ের মূল অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। তার লক্ষ্য এখন তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে অজেয় এক ‘লা সেলেস্তে’ দল গড়ে তোলা।
মাঠের লড়াই শেষ করে জিদান, পিরলো আর ফোরলান বসেছেন কৌশলের দাবার বোর্ডে। জাতীয় দলের জার্সি ছেড়ে এবার ডাগআউটে তারা কতটা সফল হন, বিশ্ব ফুটবল এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায়।











